আগের সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ নীতির প্রভাব আরও ৫০-৬০ বছর ভোগ করতে হবে: জ্বালানিমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৪:২১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 16
আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৭ বছরের অপরিকল্পিত কুইক রেন্টাল নীতির কারণে বর্তমান বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তাঁর দাবি, অতীতের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দেশকে আরও ৫০ থেকে ৬০ বছর ভুগতে হতে পারে। বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে বাস্তব পরিস্থিতিতে লোডশেডিং হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রকৃত কারণ বুঝতে হলে অতীতের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তব কারণেই লোডশেডিং হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিশেষ জ্বালানি আইন আগামী সংসদ অধিবেশনে চূড়ান্ত হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এ উদ্যোগকে সামনে রেখে আগামী সোমবার থেকে সোলার এক্সিবিশন শুরু হওয়ার কথাও জানান তিনি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ ও জ্বালানি আমদানির ব্যয় নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে সেখানে পরিবর্তন আনতে গেলে ব্যাংকগুলোও সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়বে। বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে থাকলেও সেগুলোর জন্য অর্থ দিতে হচ্ছে। অথচ বিদ্যুৎ কেনা এবং কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলএনজি আমদানিতে কাতারের ওপর নির্ভরশীলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বোমা হামলার কারণে কাতার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। আগে ১০ থেকে ১২ ডলারে কেনা এলএনজি ৩০ ডলার দিয়ে কিনতে হয়েছে। সরকারের পক্ষে সব দিকের চাপ একসঙ্গে সামাল দেওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে সরবরাহ অব্যাহত রাখা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি ভালো—এমন দাবি তিনি করবেন না। খাতে বিশাল ঘাটতি রয়েছে এবং আর্থিক চাপ বাড়ছে।
গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অনেক এলাকায় যাতায়াতের রাস্তা নেই। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ত্রুটি দেখা দিলে তা শনাক্ত করতে দুই থেকে তিন দিন লেগে যায়। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে মানুষ অনেক সময় সমস্যার এসব কারণ বুঝতে চান না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এ খাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও আগের কোনো সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ রাষ্ট্রপতি জারি করেছেন বলেও জানান তিনি।
দেশের ভূগর্ভস্থ সম্পদ অনুসন্ধানের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, দেশে উল্লেখযোগ্য ভূগর্ভস্থ সম্পদ থাকলেও গত ১৭ বছরে একটি কূপও খনন করা হয়নি। তাঁর মতে, ওই সময়ে অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানে সরকারি খাতে ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল। তবে গত ১৭ বছরে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৭০ শতাংশ বেসরকারি খাতে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও সেগুলোর কিছু যৌথ উদ্যোগে হয়েছে।
সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাঁর দল জোর করে ক্ষমতায় আসেনি বা দীর্ঘদিন জোর করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেনি। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ছোট বিষয় সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন না। এ জন্য প্রতিদিন ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা (এমআইএস) প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, একবার প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি তোলার পর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) ডেকে বিষয়টি যাচাই করা হয়। পরে দেখা যায়, কারিগরি কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
























