ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরছেন ১৭৪ বাংলাদেশি, অসুস্থ ৪১ জন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 27

ছবি সংগৃহীত

 

লিবিয়া থেকে মানবিক সহায়তায় দেশে ফিরছেন ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিক। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা ১৭৪ জনের মধ্যে ৩৬ জনকে সাগর থেকে আটক করার পর ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। অন্য ১৩৮ জন ত্রিপলীর ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।

আরও পড়ুন  হাফতার প্রশাসনের পাল্টা সিদ্ধান্ত: তুরস্ক-লিবিয়া সমুদ্র চুক্তিতে যোগদান

দেশে ফেরার আগে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) এবং প্রথম সচিব (শ্রম) উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত পথে বিদেশ যাওয়ার বিপদ ও এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অবৈধ উপায়ে বিদেশযাত্রার কারণে অনেকেই শারীরিক ও মানসিক কষ্টের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এসব ঘটনার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকে না, তাদের পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবন গড়ে তোলার পরামর্শ দেন এবং ভবিষ্যতে বিদেশ যেতে হলে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে অন্যদের সচেতন করা এবং মানবপাচারকারী ও দালালদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের পাশাপাশি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহীদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে কাজ চলছে।

এরই অংশ হিসেবে আগামী ২৮ অক্টোবর মিসরাতা শহর থেকে আরও ১৭৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনে আগ্রহী এসব নাগরিকের মানবিক সহায়তায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরছেন ১৭৪ বাংলাদেশি, অসুস্থ ৪১ জন

আপডেট সময় ১০:০৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

 

লিবিয়া থেকে মানবিক সহায়তায় দেশে ফিরছেন ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিক। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা ১৭৪ জনের মধ্যে ৩৬ জনকে সাগর থেকে আটক করার পর ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। অন্য ১৩৮ জন ত্রিপলীর ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।

আরও পড়ুন  গাজার অধিবাসীদের লিবিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

দেশে ফেরার আগে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) এবং প্রথম সচিব (শ্রম) উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত পথে বিদেশ যাওয়ার বিপদ ও এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অবৈধ উপায়ে বিদেশযাত্রার কারণে অনেকেই শারীরিক ও মানসিক কষ্টের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এসব ঘটনার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকে না, তাদের পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবন গড়ে তোলার পরামর্শ দেন এবং ভবিষ্যতে বিদেশ যেতে হলে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে অন্যদের সচেতন করা এবং মানবপাচারকারী ও দালালদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের পাশাপাশি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহীদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে কাজ চলছে।

এরই অংশ হিসেবে আগামী ২৮ অক্টোবর মিসরাতা শহর থেকে আরও ১৭৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনে আগ্রহী এসব নাগরিকের মানবিক সহায়তায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস।