বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আজ
- আপডেট সময় ১১:১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 22
প্রতিদিনের ব্যস্ততায় চোখের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি অনেকেরই অবহেলায় থেকে যায়। অথচ অযত্ন ও সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে অনেক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন। চোখের সুস্থতার গুরুত্ব এবং অন্ধত্ব ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস।
প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস’ বা ‘ওয়ার্ল্ড সাইট ডে’ পালন করা হয়। এ দিবসের মূল লক্ষ্য মানুষের মধ্যে চোখের যত্ন, দৃষ্টিশক্তি রক্ষা এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।
বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালনের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯৮৪ সালে আন্তর্জাতিক মানবসেবা সংস্থা লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন প্রথম এ দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়। মানুষের মধ্যে চোখের যত্নের গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।
পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস (আইএপিবি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দিবসটিকে বৈশ্বিক সচেতনতা কর্মসূচিতে রূপ দেয়। বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন। এর একটি বড় অংশই সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাব ও সময়মতো চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ না নেওয়ায় অনেকের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্ব দৃষ্টি দিবস কেবল একটি দিবস পালনের উপলক্ষ নয়, বরং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের চোখের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়ার একটি স্মরণবার্তা। চোখ ভালো রাখতে নিয়মিত কিছু অভ্যাস মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।
চোখে কোনো সমস্যা অনুভূত না হলেও অন্তত বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করানো জরুরি। কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অপেক্ষা না করে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও প্রয়োজন।
বর্তমানে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এতে চোখের ওপর চাপ পড়তে পারে। এ চাপ কমাতে ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পরপর অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে চোখকে বিশ্রাম দিতে হবে।
চোখের সুস্থতার জন্য খাবারের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ শাকসবজি, গাজর, পাকা পেঁপে ও ছোট মাছের মতো পুষ্টিকর খাবার রাখা যেতে পারে।
বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এখনও মানুষের প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। এ কারণে বিভিন্ন চক্ষু সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল ও সেভা ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের চিকিৎসায় তা কাজে লাগতে পারে।
সামান্য সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের এই দিনে নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের চোখের যত্নের বিষয়েও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
























