ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘যুদ্ধ পরিস্থিতি খারাপ হলেও জ্বালানির দাম আর বৃদ্ধি করতে চায় না সরকার’

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 28

ছবি সংগৃহীত

 

 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও অবনতি হলেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়াতে চায় না সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়লেও তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানি, মূল্য পরিশোধ ও মজুদ নিয়ে কোনো সংকট নেই।

আরও পড়ুন  সীমাহীন জ্বালানির সন্ধানে চীনের যুগান্তকারী আবিষ্কার! চলবে ৬০ হাজার বছর

সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বিপিসি চেয়ারম্যান।

ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতির কারণে সরকারকে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে। আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তবে সরকারের কাছ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশা করছেন তিনি। দাম বাড়ানোর ফলে যে অতিরিক্ত অর্থ আসবে, তা দিয়েও বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

দেশে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, ডলারের বিনিময় হার, বিপিসির মুনাফা, ভ্যাট ও বিতরণ খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে সংকট তৈরি হলে গত ১৮ এপ্রিল চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। তখন প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা করা হয়।

এরপর জুনে ডিজেল ছাড়া অন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ানো হয়। তখন কেরোসিনের দাম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও এই দাম বহাল ছিল।

সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে শুরু থেকেই জ্বালানি তেল নিয়ে চাপে রয়েছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশে আমদানি করা জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে সরকার।

জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে আশ্বস্ত করে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুদে কোনো সমস্যা নেই। স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণ মজুদ রাখা প্রয়োজন, তা রয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি তেলের মূল্য পরিশোধের বিষয়েও স্বস্তিদায়ক অবস্থানে পৌঁছানো গেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়লে দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম আর না বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলেও বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল কম দামে কেনা সম্ভব হলে দেশে জ্বালানির দাম কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে সরকার।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি তেল মজুদ রাখার সক্ষমতা রয়েছে। এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৯০ দিনে উন্নীত করতে স্টোরেজ বা সংরক্ষণাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

‘যুদ্ধ পরিস্থিতি খারাপ হলেও জ্বালানির দাম আর বৃদ্ধি করতে চায় না সরকার’

আপডেট সময় ১২:৫১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও অবনতি হলেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়াতে চায় না সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়লেও তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানি, মূল্য পরিশোধ ও মজুদ নিয়ে কোনো সংকট নেই।

আরও পড়ুন  সেচ নির্বিঘ্ন করতে ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিংয়ের ঘোষণা

সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বিপিসি চেয়ারম্যান।

ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতির কারণে সরকারকে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে। আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তবে সরকারের কাছ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশা করছেন তিনি। দাম বাড়ানোর ফলে যে অতিরিক্ত অর্থ আসবে, তা দিয়েও বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

দেশে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, ডলারের বিনিময় হার, বিপিসির মুনাফা, ভ্যাট ও বিতরণ খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে সংকট তৈরি হলে গত ১৮ এপ্রিল চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। তখন প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা করা হয়।

এরপর জুনে ডিজেল ছাড়া অন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ানো হয়। তখন কেরোসিনের দাম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও এই দাম বহাল ছিল।

সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে শুরু থেকেই জ্বালানি তেল নিয়ে চাপে রয়েছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশে আমদানি করা জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে সরকার।

জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে আশ্বস্ত করে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুদে কোনো সমস্যা নেই। স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণ মজুদ রাখা প্রয়োজন, তা রয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি তেলের মূল্য পরিশোধের বিষয়েও স্বস্তিদায়ক অবস্থানে পৌঁছানো গেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়লে দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম আর না বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলেও বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল কম দামে কেনা সম্ভব হলে দেশে জ্বালানির দাম কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে সরকার।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি তেল মজুদ রাখার সক্ষমতা রয়েছে। এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৯০ দিনে উন্নীত করতে স্টোরেজ বা সংরক্ষণাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।