চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে: রিজভী
- আপডেট সময় ০১:৪৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / 22
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। তিনি মনে করেন, এ সফর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, চীনের শিল্প, অবকাঠামো ও সেবা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা প্রদান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। অতীতের একমুখী কূটনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তে বর্তমানে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারাবাহিকতাই অনুসরণ করছেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতায় সেই নীতির প্রতিফলন রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চীন সফর দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এমন নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন যাতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা নির্বিঘ্ন থাকে।
মুদিদোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনার প্রস্তাবের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ছোট ব্যবসায়ীদের আয় সীমিত হওয়ায় তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা উচিত হবে না। তবে যারা কর প্রদানের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও করের আওতার বাইরে রয়েছেন, তাদের কর ব্যবস্থার আওতায় আনার পক্ষে মত দেন তিনি।
বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি বলেন, কলকাতায় অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে থাকা একটি সড়কের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভীর মতে, উপমহাদেশের একজন বিশিষ্ট নেতার নামে থাকা সড়কের নাম পরিবর্তন করা রুচিবিরোধী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারতের বিভিন্ন নেতার নামে প্রতিষ্ঠানের নাম এখনো বহাল রয়েছে, যা পারস্পরিক শিষ্টাচারের প্রতিফলন।























