ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

চীনের শক্তি প্রদর্শন, একসঙ্গে দেখলেন শি-পুতিন ও কিম

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 1169

ছবি সংগৃহীত

 

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ার বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিণত হয় সামরিক শক্তি প্রদর্শনের এক মহামঞ্চে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ বিশাল কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হয় চীনের আধুনিকতম যুদ্ধাস্ত্র, ট্যাংক, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও স্টেলথ ফাইটার জেট।

চীনের প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির সেনাবাহিনী ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিং কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব দেন এবং বিদেশি অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। খবর আলজাজিরার।

আরও পড়ুন  "চীনের যুদ্ধ-বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকীতে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ভাষণ"

শি জিনপিং প্রথমে চীনা যুদ্ধবীরদের অভিবাদন জানান। পরে তিয়ানআনমেন স্কয়ারের গেট অব হেভেনলি পিস থেকে সেনাদের উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, ‘চীন শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথেই অটল থাকবে।’ প্রায় ১০ হাজার সেনার সামনে তিনি আরও বলেন, ‘মানবজাতি আজ দাঁড়িয়ে আছে এক সঙ্কটময় মোড়ে— শান্তি না যুদ্ধ, সংলাপ না সংঘাত। চীন বিশ্বের মানুষের সঙ্গে মিলে অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।’

ঐতিহ্যবাহী ধূসর মাও স্যুট পরে খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে শি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এরপর শুরু হয় মহড়া, যা বিস্তৃত হয় বেইজিংয়ের প্রধান সড়ক চাং’আন অ্যাভিনিউজুড়ে।

কুচকাওয়াজে নজর কাড়ে চীনের উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্রসমূহ। বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয় পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ডিএফ-৫ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, যা চীনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে শি জিনপিং বিশ্বকে বার্তা দিয়েছেন যে চীন এখন একটি পরিপূর্ণ বিশ্বশক্তি। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইয়ান চং বলেন, ‘এ কুচকাওয়াজের মূল বার্তা হলো চীন বিশ্বশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ কারও চাপ বা হুমকি তাদের বিচলিত করতে পারবে না।’

পর্যবেক্ষকদের মতে, বেইজিংয়ের এ সামরিক প্রদর্শনী শুধু শক্তির প্রদর্শন নয়; বরং বিশ্বরাজনীতিতে চীনের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৌশলও বটে।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

চীনের শক্তি প্রদর্শন, একসঙ্গে দেখলেন শি-পুতিন ও কিম

আপডেট সময় ০৩:৪৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ার বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিণত হয় সামরিক শক্তি প্রদর্শনের এক মহামঞ্চে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ বিশাল কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হয় চীনের আধুনিকতম যুদ্ধাস্ত্র, ট্যাংক, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও স্টেলথ ফাইটার জেট।

চীনের প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির সেনাবাহিনী ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিং কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব দেন এবং বিদেশি অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। খবর আলজাজিরার।

আরও পড়ুন  তাইওয়ান উপকূলে চীনের সামরিক মহড়া, নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি

শি জিনপিং প্রথমে চীনা যুদ্ধবীরদের অভিবাদন জানান। পরে তিয়ানআনমেন স্কয়ারের গেট অব হেভেনলি পিস থেকে সেনাদের উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, ‘চীন শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথেই অটল থাকবে।’ প্রায় ১০ হাজার সেনার সামনে তিনি আরও বলেন, ‘মানবজাতি আজ দাঁড়িয়ে আছে এক সঙ্কটময় মোড়ে— শান্তি না যুদ্ধ, সংলাপ না সংঘাত। চীন বিশ্বের মানুষের সঙ্গে মিলে অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।’

ঐতিহ্যবাহী ধূসর মাও স্যুট পরে খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে শি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এরপর শুরু হয় মহড়া, যা বিস্তৃত হয় বেইজিংয়ের প্রধান সড়ক চাং’আন অ্যাভিনিউজুড়ে।

কুচকাওয়াজে নজর কাড়ে চীনের উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্রসমূহ। বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয় পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ডিএফ-৫ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, যা চীনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে শি জিনপিং বিশ্বকে বার্তা দিয়েছেন যে চীন এখন একটি পরিপূর্ণ বিশ্বশক্তি। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইয়ান চং বলেন, ‘এ কুচকাওয়াজের মূল বার্তা হলো চীন বিশ্বশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ কারও চাপ বা হুমকি তাদের বিচলিত করতে পারবে না।’

পর্যবেক্ষকদের মতে, বেইজিংয়ের এ সামরিক প্রদর্শনী শুধু শক্তির প্রদর্শন নয়; বরং বিশ্বরাজনীতিতে চীনের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৌশলও বটে।