ইংরেজি শিখতে থাইল্যান্ড যাচ্ছেন সাড়ে ৩০০ সচিব
- আপডেট সময় ০৭:২৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
- / 32
ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধির অজুহাতে উপ-সচিব থেকে সিনিয়র সচিব পর্যায়ের প্রায় সাড়ে ৩০০ সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের জন্য থাইল্যান্ডে পাঠানোর এক বিতর্কিত উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পর্যটন নগরী পাতায়ার নিকটবর্তী একটি কেন্দ্রে এই প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে বিপুল ব্যয়ের এই প্রকল্প নিয়ে খোদ আমলাতন্ত্র ও বিশেষজ্ঞ মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করবে বিয়াম ফাউন্ডেশন। জানা গেছে, থাইল্যান্ডের যে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি নির্বাচন করা হয়েছে, সেটি বিশ্বখ্যাত পর্যটন শহর পাতায়া থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। কর্মকর্তাদের দেশে প্রশিক্ষণে অনাগ্রহের কারণেই এমন বিদেশ ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইংরেজি শিখতে বিদেশ যাওয়ার এই বিষয়টিকে সরাসরি ‘যোগ্যতার অভাব’ হিসেবে দেখছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি মন্তব্য করেন, “কোনো সচিব যদি মনে করেন ইংরেজি শিখতে তাকে বিদেশে যেতে হবে, তবে তার সচিব হওয়ারই যোগ্যতা নেই। কোনো ঘাটতি থাকলে তা দেশেই বসে শেখা সম্ভব।”
অন্যদিকে, লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার আমলাতন্ত্রের শুদ্ধাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের মধ্যে সদিচ্ছা ও ব্রত জাগ্রত না হওয়া পর্যন্ত কোনো উদ্যোগই কার্যকর হবে না।
এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক। তবে তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, এর আগে সরকারের ‘কৃচ্ছ্রসাধন’ নীতির কারণে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়নি। বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন করে অনুমোদনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন সাধারণ মানুষকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তখন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ইংরেজি শেখার মতো সাধারণ একটি বিষয়ের জন্য করদাতার টাকায় বিদেশ ভ্রমণ সাধারণ মানুষের মধ্যে হাস্যরস ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
























