ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: ভবন মালিক ও রেস্টুরেন্ট মালিকসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির চার্জশিট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 222

ছবি সংগৃহীত

 

রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী দণ্ডবিধির সাতটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই তারা গ্যাস সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহার করায় ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনী, দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ: আইন উপদেষ্টা

চার্জশিটে নাম থাকা ২২ আসামির মধ্যে রয়েছেন:

ভবন ও স্পেস মালিক: আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ ও ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল।
রেস্টুরেন্ট মালিক: কাচ্চি ভাই, খানাজ ও তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক এবং পিৎজাইন, এ্যামব্রোশিয়া ও জেস্টিসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মালিক ও ম্যানেজাররা।

তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও মৃত্যুবরণ করায় ভবনটির স্পেস মালিক এ.কে নাসিম হায়দার ও ক্যাপ্টেন সরদার মো. মিজানুর রহমানকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত মো. আনোয়ার হোসেন সুমন এবং শফিকুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরও অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লাগে। এতে ৪৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ৩ জন সম্পূর্ণরূপে দগ্ধ হয়েছিলেন। এছাড়া আহত হন ১১ জন এবং জীবিত উদ্ধার করা হয় ৭৫ জনকে। ১ মার্চ রমনা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে অবহেলাজনিত মৃত্যু ও জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছিল।

সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, আসামিরা কেবল ব্যবসায়িক মুনাফার লোভে মানুষের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন। নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে সিলিন্ডার মজুত ও অনিরাপদ রান্নার পরিবেশই এই প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: ভবন মালিক ও রেস্টুরেন্ট মালিকসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির চার্জশিট

আপডেট সময় ০৩:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী দণ্ডবিধির সাতটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই তারা গ্যাস সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহার করায় ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনী, দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ: আইন উপদেষ্টা

চার্জশিটে নাম থাকা ২২ আসামির মধ্যে রয়েছেন:

ভবন ও স্পেস মালিক: আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ ও ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল।
রেস্টুরেন্ট মালিক: কাচ্চি ভাই, খানাজ ও তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক এবং পিৎজাইন, এ্যামব্রোশিয়া ও জেস্টিসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মালিক ও ম্যানেজাররা।

তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও মৃত্যুবরণ করায় ভবনটির স্পেস মালিক এ.কে নাসিম হায়দার ও ক্যাপ্টেন সরদার মো. মিজানুর রহমানকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত মো. আনোয়ার হোসেন সুমন এবং শফিকুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরও অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লাগে। এতে ৪৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ৩ জন সম্পূর্ণরূপে দগ্ধ হয়েছিলেন। এছাড়া আহত হন ১১ জন এবং জীবিত উদ্ধার করা হয় ৭৫ জনকে। ১ মার্চ রমনা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে অবহেলাজনিত মৃত্যু ও জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছিল।

সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, আসামিরা কেবল ব্যবসায়িক মুনাফার লোভে মানুষের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন। নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে সিলিন্ডার মজুত ও অনিরাপদ রান্নার পরিবেশই এই প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।