ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল মিডিয়ায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে, বললেন ইশরাক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র

জ্বালানি সংকট ঠেকাতে তিন দেশ থেকে বিকল্প পথে তেল আনছে বাংলাদেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 165

ছবি সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত সংকট মোকাবিলা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মজুত স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেল আমদানির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ লাইন কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে এবং দ্রুততম সময়ে তা কার্যকর করা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন  মমিনুলের রেকর্ডের দিনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে টাইগাররা, লিড দাঁড়িয়েছে ১৭৯

সচিব জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অবলম্বন করছে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার ‘পিটি ভুমি সিয়াক পাসাকো জাপিন’ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং কাজাখস্তানের ‘এক্সন মবিল কাজাখস্তান’ থেকে সরাসরি ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকেও তেল আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে একটি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখছে।” বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে জানিয়ে তিনি দেশবাসীকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার অনুরোধ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে স্পট মার্কেট থেকেও দ্রুত তেল সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শপিং মল বন্ধ রাখার মতো কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছে। আমদানির এই নতুন বিকল্প উৎসগুলো দেশের শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি সংকট ঠেকাতে তিন দেশ থেকে বিকল্প পথে তেল আনছে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৪:১২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত সংকট মোকাবিলা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মজুত স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেল আমদানির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ লাইন কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে এবং দ্রুততম সময়ে তা কার্যকর করা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন  দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

সচিব জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অবলম্বন করছে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার ‘পিটি ভুমি সিয়াক পাসাকো জাপিন’ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং কাজাখস্তানের ‘এক্সন মবিল কাজাখস্তান’ থেকে সরাসরি ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকেও তেল আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে একটি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখছে।” বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে জানিয়ে তিনি দেশবাসীকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার অনুরোধ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে স্পট মার্কেট থেকেও দ্রুত তেল সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শপিং মল বন্ধ রাখার মতো কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছে। আমদানির এই নতুন বিকল্প উৎসগুলো দেশের শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।