ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

নবাবগঞ্জ-দোহারে শীতেও তীব্র লোডশেডিং, এলপিজি সংকটে দুর্ভোগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 1746

ছবি সংগৃহীত

 

শীতকাল চললেও ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাসিন্দারা। এলপিজি গ্যাসের সংকটের কারণে অনেক পরিবার রান্নার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সেই সমাধানও কার্যকর থাকছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের আমিরপুর এলাকার গৃহবধূ সিমা আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছি। কিন্তু রান্নার মাঝেই বারবার বিদ্যুৎ চলে যায়। সময়মতো খাওয়া-দাওয়াও দুরূহ হয়ে পড়েছে।’

আরও পড়ুন  নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে নবাবগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থান ও মিছিল

সিমা আক্তারের মতো একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ ও পাশের উপজেলা দোহারের অনেক বাসিন্দা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কম থাকায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় সেই বিকল্পও কাজে আসছে না।

নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল, বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর, কলাকোপা, বাহ্রা, বক্সনগর, আগলা, চুড়াইন, গালিমপুর, শোল্লা, কৈলাইল, নয়নশ্রী ও বান্দুরা ইউনিয়নের বাসিন্দারা তাঁদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন।

কলাকোপা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সজিব বলেন, ‘বিদ্যুৎ যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। কাজের মাঝেই হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়, এতে দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’

বক্সনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইমন ইসলাম বলেন, ‘শীতকাল হওয়ায় এখন কিছুটা সহনীয় মনে হচ্ছে। কিন্তু গ্রীষ্মে যদি এমন লোডশেডিং থাকে, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মোটর দিয়ে পানি তুলতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে পানি তোলা যায় না। ট্যাংকের পানি শেষ হয়ে গেলে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়।’

পার্শ্ববর্তী দোহার উপজেলার পৌরসভাসহ বিলাসপুর, কুসুমহাটি, মাহমুদপুর, নারিশা, নয়াবাড়ী, রাইপাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নেও প্রতিদিন তীব্র লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাহমুদপুর এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি শেখ মাসুম বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। সময়মতো কাজ শেষ করতে পারছি না। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি।’

এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মামুন অর-রশীদ বলেন, ‘জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কখনো চাহিদার ৫০ শতাংশ, কখনো ৬০ বা ৭০ শতাংশ সরবরাহ পাচ্ছি। প্রাপ্ত বিদ্যুতের ভিত্তিতেই বিতরণ করতে হচ্ছে। তবে আশা করছি, দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

নবাবগঞ্জ-দোহারে শীতেও তীব্র লোডশেডিং, এলপিজি সংকটে দুর্ভোগ

আপডেট সময় ০৫:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

শীতকাল চললেও ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাসিন্দারা। এলপিজি গ্যাসের সংকটের কারণে অনেক পরিবার রান্নার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সেই সমাধানও কার্যকর থাকছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের আমিরপুর এলাকার গৃহবধূ সিমা আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছি। কিন্তু রান্নার মাঝেই বারবার বিদ্যুৎ চলে যায়। সময়মতো খাওয়া-দাওয়াও দুরূহ হয়ে পড়েছে।’

আরও পড়ুন  গরমে বিদ্যুৎ সংকট: লোডশেডিং নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে

সিমা আক্তারের মতো একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ ও পাশের উপজেলা দোহারের অনেক বাসিন্দা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কম থাকায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় সেই বিকল্পও কাজে আসছে না।

নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল, বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর, কলাকোপা, বাহ্রা, বক্সনগর, আগলা, চুড়াইন, গালিমপুর, শোল্লা, কৈলাইল, নয়নশ্রী ও বান্দুরা ইউনিয়নের বাসিন্দারা তাঁদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন।

কলাকোপা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সজিব বলেন, ‘বিদ্যুৎ যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। কাজের মাঝেই হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়, এতে দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’

বক্সনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইমন ইসলাম বলেন, ‘শীতকাল হওয়ায় এখন কিছুটা সহনীয় মনে হচ্ছে। কিন্তু গ্রীষ্মে যদি এমন লোডশেডিং থাকে, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মোটর দিয়ে পানি তুলতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে পানি তোলা যায় না। ট্যাংকের পানি শেষ হয়ে গেলে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়।’

পার্শ্ববর্তী দোহার উপজেলার পৌরসভাসহ বিলাসপুর, কুসুমহাটি, মাহমুদপুর, নারিশা, নয়াবাড়ী, রাইপাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নেও প্রতিদিন তীব্র লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাহমুদপুর এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি শেখ মাসুম বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। সময়মতো কাজ শেষ করতে পারছি না। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি।’

এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মামুন অর-রশীদ বলেন, ‘জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কখনো চাহিদার ৫০ শতাংশ, কখনো ৬০ বা ৭০ শতাংশ সরবরাহ পাচ্ছি। প্রাপ্ত বিদ্যুতের ভিত্তিতেই বিতরণ করতে হচ্ছে। তবে আশা করছি, দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে।’