ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের সীতাকুণ্ডে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ১, আহত ৬ ‘১৭ বছর মানুষকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

সরাসরি এলপি গ্যাস আমদানিতে যাচ্ছে সরকার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 1327

ছবি: সংগৃহীত

 

সংকট কাটাতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ লক্ষ্যে গত ১০ জানুয়ারি সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি।

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দামের ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠে আসছে।

আরও পড়ুন  রমজান সামনে রেখে খেজুর আমদানিতে শুল্ক কমাল সরকার

এই প্রেক্ষাপটে সরকারি উদ্যোগে এলপিজি আমদানির মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং কৃত্রিম সংকট মোকাবিলাই বিপিসির প্রধান লক্ষ্য। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বেসরকারি অপারেটরদের অনেকেই নানা জটিলতার কারণে নিয়মিত আমদানি করতে পারছেন না, যার সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা হলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। তবে বিপিসির নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহার করেই এই কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। আপাতত সরকার শুধু আমদানির দায়িত্ব নেবে, আর সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের কাজ বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস ও বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এলপিজির চাহিদা বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন। ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৮০ শতাংশ খরচ হয় রান্নায়, বাকি ২০ শতাংশ শিল্পকারখানা ও যানবাহনে। প্রতিবছর এলপিজির চাহিদা বাড়ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস লিমিটেডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে দেশে এলপিজির চাহিদা বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন ছাড়াতে পারে। সরকারি উৎস থেকে জোগান দাঁড়াতে পারে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টন, যা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম জানান, বিগত সরকারগুলো এলপিজি খাতকে পুরোপুরি বাণিজ্যিক করে ফেলেছে। তাই ভোক্তাবান্ধব সিদ্ধান্ত দরকার। প্রয়োজনে সরকারিভাবে আমদানি করে সরবরাহ বাড়াতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সরাসরি এলপি গ্যাস আমদানিতে যাচ্ছে সরকার

আপডেট সময় ০২:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

 

সংকট কাটাতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ লক্ষ্যে গত ১০ জানুয়ারি সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি।

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দামের ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠে আসছে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম বন্দরে ভয়াবহ কনটেইনার জট, বিপাকে শিল্প আমদানিকারকরা

এই প্রেক্ষাপটে সরকারি উদ্যোগে এলপিজি আমদানির মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং কৃত্রিম সংকট মোকাবিলাই বিপিসির প্রধান লক্ষ্য। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বেসরকারি অপারেটরদের অনেকেই নানা জটিলতার কারণে নিয়মিত আমদানি করতে পারছেন না, যার সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা হলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। তবে বিপিসির নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহার করেই এই কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। আপাতত সরকার শুধু আমদানির দায়িত্ব নেবে, আর সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের কাজ বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস ও বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এলপিজির চাহিদা বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন। ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৮০ শতাংশ খরচ হয় রান্নায়, বাকি ২০ শতাংশ শিল্পকারখানা ও যানবাহনে। প্রতিবছর এলপিজির চাহিদা বাড়ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস লিমিটেডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে দেশে এলপিজির চাহিদা বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন ছাড়াতে পারে। সরকারি উৎস থেকে জোগান দাঁড়াতে পারে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টন, যা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম জানান, বিগত সরকারগুলো এলপিজি খাতকে পুরোপুরি বাণিজ্যিক করে ফেলেছে। তাই ভোক্তাবান্ধব সিদ্ধান্ত দরকার। প্রয়োজনে সরকারিভাবে আমদানি করে সরবরাহ বাড়াতে হবে।