ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাতারে বাংলাদেশি সেনা পাঠানো হবে, চুক্তি বাড়ানোর আশাবাদ: প্রেসসচিব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • / 222

ছবি সংগৃহীত

 

পারস্য উপসাগরীয় দেশ কাতার বাংলাদেশ থেকে সেনা সদস্য নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত আর্থনা সামিটের সাইডলাইনে আয়োজিত এক বৈঠকে এই প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গালফ যুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশের সেনা সদস্যরা কুয়েতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এবার কাতারও বাংলাদেশ থেকে ৭২৫ জন সেনা সদস্য নিয়োগ করতে চায়। শফিকুল আলম বলেন, “প্রতি তিন বছর অন্তর এই সেনা সদস্যদের একটি ব্যাচ কাতারে যাবে। আমরা চাই, এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৬০০ বা তারও বেশি করা হোক। এ বিষয়ে সামরিক সচিব এবং এসএসএফ প্রধান আজ সকালে আমাকে অবহিত করেছেন।”

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ২০৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, ছাত্র নেতৃত্বে নতুন দিগন্ত

কাতারে একজন সেনা সদস্যের প্রাথমিক বেতন আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রেসসচিব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রথম দলটি কাতারে পাঠানো সম্ভব হবে। শুধু সেনা সদস্য নয়, আমরা কাতারে আরও বেশি শ্রমিক পাঠাতে আগ্রহী।”

শফিকুল আলম আরও বলেন, “আজ কাতারের জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কাতার বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের সাথে তাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। আমরা সেই চুক্তির আওতা বাড়িয়ে আরও বেশি এলএনজি আমদানি করতে চাই। কারণ, অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে দেশে থাকা প্রায় ৬০০ প্রতিষ্ঠান নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু আমাদের নিজস্ব গ্যাসের মজুত ক্রমশ কমে আসছে।”

সরকার কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে আন্তরিক। বিশেষ করে এলএনজি’র ক্ষেত্রে সুলভ মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, “পতিত স্বৈরাচার সরকারের সময় কাতারের কাছে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রেখে যাওয়া হয়েছিল। এতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে সেই ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে। এখন প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ডলার বাকি রয়েছে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কাতারের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কাতারে বাংলাদেশি সেনা পাঠানো হবে, চুক্তি বাড়ানোর আশাবাদ: প্রেসসচিব

আপডেট সময় ০৪:৪০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

 

পারস্য উপসাগরীয় দেশ কাতার বাংলাদেশ থেকে সেনা সদস্য নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত আর্থনা সামিটের সাইডলাইনে আয়োজিত এক বৈঠকে এই প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গালফ যুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশের সেনা সদস্যরা কুয়েতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এবার কাতারও বাংলাদেশ থেকে ৭২৫ জন সেনা সদস্য নিয়োগ করতে চায়। শফিকুল আলম বলেন, “প্রতি তিন বছর অন্তর এই সেনা সদস্যদের একটি ব্যাচ কাতারে যাবে। আমরা চাই, এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৬০০ বা তারও বেশি করা হোক। এ বিষয়ে সামরিক সচিব এবং এসএসএফ প্রধান আজ সকালে আমাকে অবহিত করেছেন।”

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ২০৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, ছাত্র নেতৃত্বে নতুন দিগন্ত

কাতারে একজন সেনা সদস্যের প্রাথমিক বেতন আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রেসসচিব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রথম দলটি কাতারে পাঠানো সম্ভব হবে। শুধু সেনা সদস্য নয়, আমরা কাতারে আরও বেশি শ্রমিক পাঠাতে আগ্রহী।”

শফিকুল আলম আরও বলেন, “আজ কাতারের জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কাতার বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের সাথে তাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। আমরা সেই চুক্তির আওতা বাড়িয়ে আরও বেশি এলএনজি আমদানি করতে চাই। কারণ, অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে দেশে থাকা প্রায় ৬০০ প্রতিষ্ঠান নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু আমাদের নিজস্ব গ্যাসের মজুত ক্রমশ কমে আসছে।”

সরকার কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে আন্তরিক। বিশেষ করে এলএনজি’র ক্ষেত্রে সুলভ মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, “পতিত স্বৈরাচার সরকারের সময় কাতারের কাছে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রেখে যাওয়া হয়েছিল। এতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে সেই ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে। এখন প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ডলার বাকি রয়েছে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কাতারের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।