ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনুমতি মেলেনি ইরানের, হরমুজ প্রণালিতে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 26

ছবি সংগৃহীত

 

ইরান সরকার সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা করলেও শেষ মুহূর্তে অনুমতি না মেলায় আবারও আটকে গেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ইরানি নৌবাহিনীর বাধার মুখে জাহাজটি আর এগোতে পারেনি।

বিএসসি সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে ইরান সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলে শারজাহ বন্দরের কাছে অবস্থানরত ‘বাংলার জয়যাত্রা’ রাত ৯টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের উদ্দেশে নোঙর তোলে। এ সময় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি অনুমতি না থাকলেও প্রায় ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজের বহরের সঙ্গে রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে।

আরও পড়ুন  পরমাণু ইস্যুতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করলেন খামেনি, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা

তবে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইরানি নৌবাহিনী আকস্মিক এক রেডিও বার্তার মাধ্যমে ওই পথে থাকা সব জাহাজকে ইঞ্জিন বন্ধ করার কঠোর নির্দেশ দেয়।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, তাদের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজই হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে না। এর ফলে অন্যান্য জাহাজের সঙ্গে বাংলাদেশি এই জাহাজটিও গভীর সমুদ্রে আটকা পড়ে।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও উল্লেখ করেন, অনুমতি চেয়ে বার্তা পাঠানোর পর কোনো নেতিবাচক উত্তর না আসায় আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে অন্যান্য জাহাজের সঙ্গে বাংলার জয়যাত্রা যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু মাঝপথে ইরানি কর্তৃপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে পুনরায় জাহাজটির যাত্রা থমকে গেল।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা ও যুদ্ধের কারণে ৩১ জন নাবিক নিয়ে টানা ৪০ দিন আটকে ছিল বাংলার জয়যাত্রা। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে এটি রওনা দিয়েছিল। গত ১০ এপ্রিল একবার হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছালেও অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

অনুমতি মেলেনি ইরানের, হরমুজ প্রণালিতে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আপডেট সময় ১১:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

 

ইরান সরকার সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা করলেও শেষ মুহূর্তে অনুমতি না মেলায় আবারও আটকে গেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ইরানি নৌবাহিনীর বাধার মুখে জাহাজটি আর এগোতে পারেনি।

বিএসসি সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে ইরান সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলে শারজাহ বন্দরের কাছে অবস্থানরত ‘বাংলার জয়যাত্রা’ রাত ৯টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের উদ্দেশে নোঙর তোলে। এ সময় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি অনুমতি না থাকলেও প্রায় ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজের বহরের সঙ্গে রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে।

আরও পড়ুন  ইরান ইস্যুতে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের তীব্র বিতর্ক

তবে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইরানি নৌবাহিনী আকস্মিক এক রেডিও বার্তার মাধ্যমে ওই পথে থাকা সব জাহাজকে ইঞ্জিন বন্ধ করার কঠোর নির্দেশ দেয়।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, তাদের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজই হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে না। এর ফলে অন্যান্য জাহাজের সঙ্গে বাংলাদেশি এই জাহাজটিও গভীর সমুদ্রে আটকা পড়ে।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও উল্লেখ করেন, অনুমতি চেয়ে বার্তা পাঠানোর পর কোনো নেতিবাচক উত্তর না আসায় আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে অন্যান্য জাহাজের সঙ্গে বাংলার জয়যাত্রা যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু মাঝপথে ইরানি কর্তৃপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে পুনরায় জাহাজটির যাত্রা থমকে গেল।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা ও যুদ্ধের কারণে ৩১ জন নাবিক নিয়ে টানা ৪০ দিন আটকে ছিল বাংলার জয়যাত্রা। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে এটি রওনা দিয়েছিল। গত ১০ এপ্রিল একবার হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছালেও অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিল।