ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চড়া দামে এলএনজি নাকি সহনীয় লোডশেডিং, সিদ্ধান্ত নিতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 129

ছবি: সংগৃহীত

 

বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বেড়ে যাওয়ায় চড়া দামে গ্যাস আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখা হবে, নাকি কিছুটা সহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং মেনে নেওয়া হবে—সরকারকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাইলে ভারতের হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে বর্তমানে গ্যাসের সংকট চলছে। গ্যাসের অভাবে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ রয়েছে। একই কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে দেশজুড়ে এক হাজার থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এলএনজি কার্গোর সরবরাহে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, অচিরেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল এককালীন পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ১ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান গ্যাস সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অনিয়মকে দায়ী করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ রেখে এ খাত কয়েকজন অলিগার্কের হাতে তুলে দেওয়ার দীর্ঘদিনের অনিয়মের ফলেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে গ্যাস আমদানিতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও ভাবতে হবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেষ পর্যন্ত বেশি দামে গ্যাস আমদানি করে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়া হবে, নাকি কিছুটা লোডশেডিং মেনে নেওয়া হবে—এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ইউনিট এলএনজি ১২ ডলারে পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা ২৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও বাড়লে এলএনজির মূল্য ৩০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

চড়া দামে এলএনজি নাকি সহনীয় লোডশেডিং, সিদ্ধান্ত নিতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৭:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

 

বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বেড়ে যাওয়ায় চড়া দামে গ্যাস আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখা হবে, নাকি কিছুটা সহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং মেনে নেওয়া হবে—সরকারকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন  গরমে লোডশেডিং সীমিত রাখতে সরকারের প্রচেষ্টা চলছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে বর্তমানে গ্যাসের সংকট চলছে। গ্যাসের অভাবে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ রয়েছে। একই কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে দেশজুড়ে এক হাজার থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এলএনজি কার্গোর সরবরাহে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, অচিরেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল এককালীন পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ১ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান গ্যাস সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অনিয়মকে দায়ী করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ রেখে এ খাত কয়েকজন অলিগার্কের হাতে তুলে দেওয়ার দীর্ঘদিনের অনিয়মের ফলেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে গ্যাস আমদানিতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও ভাবতে হবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেষ পর্যন্ত বেশি দামে গ্যাস আমদানি করে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়া হবে, নাকি কিছুটা লোডশেডিং মেনে নেওয়া হবে—এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ইউনিট এলএনজি ১২ ডলারে পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা ২৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও বাড়লে এলএনজির মূল্য ৩০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।