ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ

বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার: খুঁজে পাওয়া গেল লুকানো প্লাজমা কাঠামো

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / 558

ছবি সংগৃহীত

 

মহাকাশ বিজ্ঞানের জগতে প্লাজমা একটি পরিচিত নাম। এটি পদার্থের একটি বিশেষ অবস্থা, যেখানে পরমাণুর ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন হয়ে আয়নিত গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতার কারণে এই প্লাজমা মহাবিশ্বের নানান অংশে, বিশেষ করে তারকাপুঞ্জ ও নীহারিকায়, সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে এক নতুন ও রহস্যময় প্লাজমা কাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন, যা এতদিন পৃথিবীর কাছেই লুকানো ছিল।

‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ নামক আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন প্লাজমা স্তরটি একটি দ্রুতগতিতে ঘূর্ণায়মান পালসার তারার আশেপাশে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের মতে, পালসারটির নাম J0437-4715, এবং এটি পৃথিবী থেকে মাত্র ৫১২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। পালসার হলো একধরনের নিউট্রন তারা, যা মহাকাশের সবচেয়ে ঘন ও রহস্যময় বস্তুর মধ্যে অন্যতম। এই পালসার একটি তীব্র রেডিও তরঙ্গ ও কণা প্রবাহ সৃষ্টি করে, যা তার চারপাশের আন্তনাক্ষত্রিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে ছুটে চলে। এর ফলে তৈরি হয় উত্তপ্ত গ্যাসের এক প্রকার শক তরঙ্গ, যা মহাশূন্যে প্লাজমার এক অশান্ত অবস্থা সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন  চীনের যুগান্তকারী আবিষ্কার: নকলের ভেতর থেকে আসল পারমাণবিক বোমা চিনে ফেলবে AI

এই প্লাজমার মধ্যে তরঙ্গের বিক্ষিপ্ততা একটি বিশেষ নকশা গঠন করে, যার ফলে দূর থেকে পালসারটিকে মিটমিটে তারা হিসেবে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এই প্লাজমা স্তর বিশ্লেষণের জন্য বর্তমানে সিন্টিলেশন আর্ক নামক এক ধরণের ইন্টারফেরেন্স প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করছেন। এই পদ্ধতিকে অনেকটা মহাকাশের বস্তুসমূহের সিটি স্ক্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই প্রযুক্তির সাহায্যে পালসারের তরঙ্গ কীভাবে গঠিত ও ছড়িয়ে পড়ছে তা আরও গভীরভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা চলছে।

এটি শুধু একটি নতুন আবিষ্কার নয়, বরং মহাবিশ্বের গঠন ও তারকার আশেপাশের জটিল কাঠামো বোঝার পথে একটি বড় অগ্রগতি। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, এই গবেষণার মাধ্যমে মহাকাশে থাকা অজানা অনেক তথ্য সামনে আসবে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার: খুঁজে পাওয়া গেল লুকানো প্লাজমা কাঠামো

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

 

মহাকাশ বিজ্ঞানের জগতে প্লাজমা একটি পরিচিত নাম। এটি পদার্থের একটি বিশেষ অবস্থা, যেখানে পরমাণুর ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন হয়ে আয়নিত গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতার কারণে এই প্লাজমা মহাবিশ্বের নানান অংশে, বিশেষ করে তারকাপুঞ্জ ও নীহারিকায়, সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে এক নতুন ও রহস্যময় প্লাজমা কাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন, যা এতদিন পৃথিবীর কাছেই লুকানো ছিল।

‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ নামক আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন প্লাজমা স্তরটি একটি দ্রুতগতিতে ঘূর্ণায়মান পালসার তারার আশেপাশে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের মতে, পালসারটির নাম J0437-4715, এবং এটি পৃথিবী থেকে মাত্র ৫১২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। পালসার হলো একধরনের নিউট্রন তারা, যা মহাকাশের সবচেয়ে ঘন ও রহস্যময় বস্তুর মধ্যে অন্যতম। এই পালসার একটি তীব্র রেডিও তরঙ্গ ও কণা প্রবাহ সৃষ্টি করে, যা তার চারপাশের আন্তনাক্ষত্রিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে ছুটে চলে। এর ফলে তৈরি হয় উত্তপ্ত গ্যাসের এক প্রকার শক তরঙ্গ, যা মহাশূন্যে প্লাজমার এক অশান্ত অবস্থা সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন  দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কি বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি? যা বলছে গবেষণা

এই প্লাজমার মধ্যে তরঙ্গের বিক্ষিপ্ততা একটি বিশেষ নকশা গঠন করে, যার ফলে দূর থেকে পালসারটিকে মিটমিটে তারা হিসেবে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এই প্লাজমা স্তর বিশ্লেষণের জন্য বর্তমানে সিন্টিলেশন আর্ক নামক এক ধরণের ইন্টারফেরেন্স প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করছেন। এই পদ্ধতিকে অনেকটা মহাকাশের বস্তুসমূহের সিটি স্ক্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই প্রযুক্তির সাহায্যে পালসারের তরঙ্গ কীভাবে গঠিত ও ছড়িয়ে পড়ছে তা আরও গভীরভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা চলছে।

এটি শুধু একটি নতুন আবিষ্কার নয়, বরং মহাবিশ্বের গঠন ও তারকার আশেপাশের জটিল কাঠামো বোঝার পথে একটি বড় অগ্রগতি। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, এই গবেষণার মাধ্যমে মহাকাশে থাকা অজানা অনেক তথ্য সামনে আসবে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সূত্র: এনডিটিভি