ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

ইউরোপে নতুন নিরাপত্তা ব্যুহ: সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে জার্মানি, ইউরোপে নেতৃত্বের নতুন প্রস্তুতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫
  • / 486

ছবি সংগৃহীত

 

 

জার্মান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রালফ হ্যামারস্টাইন এক ব্যঙ্গাত্মক হাসি দিয়ে প্রশ্ন করেন, “তুমি কি মনে করো পুতিনকে বিশ্বাস করা যায়?” ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের মতই তার জবাব ‘না’।

আরও পড়ুন  এস্তোনিয়া—ডিজিটাল রাষ্ট্র, প্রাচীন শহর আর নীরব প্রকৃতির দেশ

এই ‘না’-এর জোরেই ইউরোপে সামরিক পুনর্গঠনের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে এমন একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে, যা রাশিয়ার পক্ষে লাভজনক হতে পারে, তখন ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার দায় নিজেকেই নিতে প্রস্তুত হচ্ছে।

জার্মানি, যা দীর্ঘদিন সামরিক খাতে অবহেলা করেছিল, এখন পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্যপট। প্রত্যাশিত নতুন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ঘোষণা দিয়েছেন স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী যুগে এবারই সবচেয়ে বড় সামরিক বিনিয়োগ করবে জার্মানি।

সম্প্রতি সংবিধান সংশোধন করে ঋণ সীমাবদ্ধতা শিথিল করেছে বার্লিন, যা জার্মানির সামরিক বাজেট বাড়ানোর পথ খুলে দিয়েছে। যদি দেশটি জিডিপির ৩.৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে, তাহলে আগামী দশ বছরে ব্যয় ছাড়াবে ৬০০ বিলিয়ন ইউরো।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জার্মানির একটি গোপন সামরিক ঘাঁটিতে পাঁচটি ন্যাটো মিত্র দেশের যৌথ মহড়া, যেখানে দেখা গেছে কীভাবে একটি শত্রু রাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়া জানাবে জোটের সদস্যরা।

হ্যামারস্টাইন বলছেন, “জার্মানি শুধু ইউরোপের কেন্দ্র নয়, এটি নেতৃত্বের প্রতীক। আমাদের দায়িত্ব এখন অনেক বড়।” ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন ইউরোপের নিরাপত্তা চিন্তায় এক মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বার্লিনে একে বলা হচ্ছে “পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ” যেখান থেকে শুরু হয়েছে নতুন সামরিক অধ্যায়।

বিদায়ী চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস ১০০ বিলিয়ন ইউরোর একটি বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেন বুন্ডেসভের আধুনিকায়নে। এটি ছিল এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যার জন্য তাকে সংবিধান সংশোধন করতে হয়।

জার্মানি এখন আর নিরব দর্শক নয় এটি ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোয় হয়ে উঠছে একটি নির্ভরযোগ্য ও দৃঢ় শক্তি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউরোপে নতুন নিরাপত্তা ব্যুহ: সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে জার্মানি, ইউরোপে নেতৃত্বের নতুন প্রস্তুতি

আপডেট সময় ১২:১৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

 

 

জার্মান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রালফ হ্যামারস্টাইন এক ব্যঙ্গাত্মক হাসি দিয়ে প্রশ্ন করেন, “তুমি কি মনে করো পুতিনকে বিশ্বাস করা যায়?” ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের মতই তার জবাব ‘না’।

আরও পড়ুন  ইউরোপের প্রতিরক্ষা জোরদারে ১৫০ বিলিয়ন ইউরোর "SAFE" তহবিল অনুমোদন

এই ‘না’-এর জোরেই ইউরোপে সামরিক পুনর্গঠনের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে এমন একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে, যা রাশিয়ার পক্ষে লাভজনক হতে পারে, তখন ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার দায় নিজেকেই নিতে প্রস্তুত হচ্ছে।

জার্মানি, যা দীর্ঘদিন সামরিক খাতে অবহেলা করেছিল, এখন পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্যপট। প্রত্যাশিত নতুন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ঘোষণা দিয়েছেন স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী যুগে এবারই সবচেয়ে বড় সামরিক বিনিয়োগ করবে জার্মানি।

সম্প্রতি সংবিধান সংশোধন করে ঋণ সীমাবদ্ধতা শিথিল করেছে বার্লিন, যা জার্মানির সামরিক বাজেট বাড়ানোর পথ খুলে দিয়েছে। যদি দেশটি জিডিপির ৩.৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে, তাহলে আগামী দশ বছরে ব্যয় ছাড়াবে ৬০০ বিলিয়ন ইউরো।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জার্মানির একটি গোপন সামরিক ঘাঁটিতে পাঁচটি ন্যাটো মিত্র দেশের যৌথ মহড়া, যেখানে দেখা গেছে কীভাবে একটি শত্রু রাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়া জানাবে জোটের সদস্যরা।

হ্যামারস্টাইন বলছেন, “জার্মানি শুধু ইউরোপের কেন্দ্র নয়, এটি নেতৃত্বের প্রতীক। আমাদের দায়িত্ব এখন অনেক বড়।” ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন ইউরোপের নিরাপত্তা চিন্তায় এক মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বার্লিনে একে বলা হচ্ছে “পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ” যেখান থেকে শুরু হয়েছে নতুন সামরিক অধ্যায়।

বিদায়ী চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস ১০০ বিলিয়ন ইউরোর একটি বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেন বুন্ডেসভের আধুনিকায়নে। এটি ছিল এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যার জন্য তাকে সংবিধান সংশোধন করতে হয়।

জার্মানি এখন আর নিরব দর্শক নয় এটি ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোয় হয়ে উঠছে একটি নির্ভরযোগ্য ও দৃঢ় শক্তি।