ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

কৃষ্ণসাগরে ভারতীয় ক্রুদের ট্যাংকারে ড্রোন হামলা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 26

ছবি সংগৃহীত

 

রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলের কাছে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রু বহনকারী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটিতে হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়লেও এতে থাকা সব ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়।

রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ‘নৌ ড্রোন’ ব্যবহার করে ট্যাংকারটিতে হামলা চালানো হয়। হামলার পর জাহাজ থেকে কৃষ্ণসাগরের পানিতে ছড়িয়ে পড়া অপরিশোধিত তেলেও আগুন ধরে যায়। আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় প্রাথমিকভাবে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি উদ্ধারকর্মীরা। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর আবারও অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন  মস্কোয় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, সাময়িকভাবে বন্ধ চারটি বিমানবন্দর

ঘটনাটি ঘটেছে পর্যটননগরী সোচির কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে সমুদ্রের ওপর তীব্র কমলা রঙের আগুন এবং আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

নিরাপত্তার কারণে সোচির উপকূল ও সৈকত এলাকায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র।

এর এক দিন আগে, রোমানিয়ার উপকূলের কাছে আরেকটি জাহাজে আগুন ধরে সেটি ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একজন নিহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ইউক্রেনের দাবি, ওই জাহাজেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়েছিল। এতে এক ভারতীয় ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনীয় পণ্য ও শস্যবাহী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ। এসব জাহাজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রোমানিয়ার উপকূলীয় জলসীমার কাছ দিয়ে চলাচল করছিল।

অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই তারা রুশ তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই হামলা আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইউক্রেনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি দিনের বেলাতেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে শহরটির স্বাভাবিক যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

এর আগে দক্ষিণ রাশিয়ার বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলার পর সমুদ্রে তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়া এবং সৈকত বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলেও স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কালো রঙের দূষিত বৃষ্টির মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

কৃষ্ণসাগরে ভারতীয় ক্রুদের ট্যাংকারে ড্রোন হামলা

আপডেট সময় ১২:১৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

 

রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলের কাছে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রু বহনকারী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটিতে হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়লেও এতে থাকা সব ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়।

রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ‘নৌ ড্রোন’ ব্যবহার করে ট্যাংকারটিতে হামলা চালানো হয়। হামলার পর জাহাজ থেকে কৃষ্ণসাগরের পানিতে ছড়িয়ে পড়া অপরিশোধিত তেলেও আগুন ধরে যায়। আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় প্রাথমিকভাবে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি উদ্ধারকর্মীরা। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর আবারও অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন  নিহত ৯: ইউক্রেনের বহুতল ভবনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা"

ঘটনাটি ঘটেছে পর্যটননগরী সোচির কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে সমুদ্রের ওপর তীব্র কমলা রঙের আগুন এবং আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

নিরাপত্তার কারণে সোচির উপকূল ও সৈকত এলাকায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র।

এর এক দিন আগে, রোমানিয়ার উপকূলের কাছে আরেকটি জাহাজে আগুন ধরে সেটি ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একজন নিহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ইউক্রেনের দাবি, ওই জাহাজেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়েছিল। এতে এক ভারতীয় ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনীয় পণ্য ও শস্যবাহী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ। এসব জাহাজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রোমানিয়ার উপকূলীয় জলসীমার কাছ দিয়ে চলাচল করছিল।

অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই তারা রুশ তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই হামলা আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইউক্রেনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি দিনের বেলাতেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে শহরটির স্বাভাবিক যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

এর আগে দক্ষিণ রাশিয়ার বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলার পর সমুদ্রে তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়া এবং সৈকত বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলেও স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কালো রঙের দূষিত বৃষ্টির মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।