নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করছেন মার্কিন নাগরিক
- আপডেট সময় ০১:৫৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 61
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করছেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রতি ১০ জনের মাত্র ২ জন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আগ্রাসী শুল্কনীতি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া অর্থনৈতিক স্বস্তির প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়াকে ঘিরে সমালোচনা বাড়ছে।
জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পের নীতিই প্রধানত দায়ী। তবে রিপাবলিকানদের বড় একটি অংশ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট হলেও মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরাসরি তাঁর নীতিকে দায়ী করার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সতর্ক।
দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জনের মাত্র ৩ জন। অন্যদিকে প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামকে তাঁদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া সাধারণ ভোটারদের বক্তব্যেও দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ে হতাশার বিষয়টি উঠে এসেছে। পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান সমর্থক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ফ্রেড নাউম্যান বলেন, হোয়াইট হাউস থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার খরচ কমছে না। ফলে প্রতি সপ্তাহেই তাঁকে আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক নন ক্রিস্টেন স্লেভেন। তিনি ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির সমালোচনা করে বলেন, আমদানি করা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে মূল্যস্ফীতি কমেনি; বরং সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় আরও বেড়েছে।
আরেক ভোটার রবার্ট গল্টের ভাষ্য, নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প দ্রুত পণ্যের দাম কমানো এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখনো মাসিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পাচ্ছে না।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি নিয়ে এমন জনমত রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা দলটির বিরুদ্ধে জরিপের ফলাফলকে কাজে লাগাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি ধনীদের বেশি সুবিধা দিচ্ছে, অন্যদিকে কর্মজীবী পরিবারগুলোকে বাড়তি চাপের মুখে ফেলছে।
তবে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, কর্মসংস্থানসহ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকগুলো এখনো শক্তিশালী রয়েছে। তাঁদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার জটিলতা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের নেওয়া নীতির প্রভাবেও মূল্যস্ফীতি অব্যাহত রয়েছে।
























