ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 17

ছবি সংগৃহীত

 

ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতা ব্যবহার করে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে তিনি নিষেধাজ্ঞাগুলো স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ট্রাম্পের দাবি, কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থের’ অনুকূলে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া নিষেধাজ্ঞা বিলটিতে ট্রাম্প নিজেই গত সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করেছিলেন। আইনটি ১৮ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন  রাশিয়া থেকে ভারতের সস্তা তেল আমদানির নেপথ্যে মুকেশ আম্বানি

এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানি করবে। মধ্যবর্তী নির্বাচন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্রাম্পের এ পরিকল্পনায় আইনপ্রণেতারা বিস্মিত হয়েছেন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের পক্ষ থেকেই এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

নিষেধাজ্ঞা আইনটির নামকরণ করা হয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। ১১ জুলাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের অন্যতম কট্টর সমর্থক ছিলেন।

আইনটি রাশিয়ার অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। এতে ট্রাম্পকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর, বিশেষ করে চীন ও ভারতের ক্ষেত্রে, ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, রুশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়ার ব্যবহৃত ট্যাঙ্কারগুলোর গোপন বহরের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান রয়েছে আইনটিতে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের ২০ জন আইনপ্রণেতা ট্রাম্পকে একটি চিঠি পাঠান। এতে তাঁরা ১৮ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা নতুন আইনটি মেনে চলার আহ্বান জানান।

নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান আইনপ্রণেতারা। একই সঙ্গে আইনটি ‘সম্পূর্ণ ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের’ আহ্বান জানান তাঁরা। তাঁদের মতে, এ পদক্ষেপ ‘পুতিনকে শান্তি আলোচনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে’। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি গ্রাহাম আইন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞাগুলো বিলম্ব ছাড়াই পূর্ণ মাত্রায় কার্যকরের আহ্বানও জানান তাঁরা।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে তাঁর এবং রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে তাঁরা সম্মত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত দেশটির যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সহায়তা করতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই চুক্তিকে পুতিনের জন্য একটি উপহার হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ১২:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

 

ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতা ব্যবহার করে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে তিনি নিষেধাজ্ঞাগুলো স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ট্রাম্পের দাবি, কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থের’ অনুকূলে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া নিষেধাজ্ঞা বিলটিতে ট্রাম্প নিজেই গত সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করেছিলেন। আইনটি ১৮ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন  ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার প্রথম নির্বাচনে পুতিনপন্থিদের বড় জয়

এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানি করবে। মধ্যবর্তী নির্বাচন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্রাম্পের এ পরিকল্পনায় আইনপ্রণেতারা বিস্মিত হয়েছেন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের পক্ষ থেকেই এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

নিষেধাজ্ঞা আইনটির নামকরণ করা হয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। ১১ জুলাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের অন্যতম কট্টর সমর্থক ছিলেন।

আইনটি রাশিয়ার অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। এতে ট্রাম্পকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর, বিশেষ করে চীন ও ভারতের ক্ষেত্রে, ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, রুশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়ার ব্যবহৃত ট্যাঙ্কারগুলোর গোপন বহরের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান রয়েছে আইনটিতে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের ২০ জন আইনপ্রণেতা ট্রাম্পকে একটি চিঠি পাঠান। এতে তাঁরা ১৮ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা নতুন আইনটি মেনে চলার আহ্বান জানান।

নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান আইনপ্রণেতারা। একই সঙ্গে আইনটি ‘সম্পূর্ণ ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের’ আহ্বান জানান তাঁরা। তাঁদের মতে, এ পদক্ষেপ ‘পুতিনকে শান্তি আলোচনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে’। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি গ্রাহাম আইন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞাগুলো বিলম্ব ছাড়াই পূর্ণ মাত্রায় কার্যকরের আহ্বানও জানান তাঁরা।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে তাঁর এবং রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে তাঁরা সম্মত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত দেশটির যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সহায়তা করতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই চুক্তিকে পুতিনের জন্য একটি উপহার হিসেবে অভিহিত করেছেন।