ট্রেড লাইসেন্স পেতে চালু হচ্ছে একক অনলাইন পোর্টাল, কমবে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি: বাণিজ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় ১২:১৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 22
ব্যবসায়ীদের সময়, ব্যয় ও প্রশাসনিক ভোগান্তি কমাতে একক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই দিনে একাধিক সরকারি সংস্থার যৌথ পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’-এর প্রথম সভায় এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার পাশাপাশি অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা এবং হয়রানি কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন পৃথক ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স দেয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একটি সমন্বিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে ঘরে বসেই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।
পরিকল্পনায় লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো এবং প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সকে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা সমজাতীয় নামে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে লাইসেন্স সংগ্রহে সময়ক্ষেপণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনেও সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর নেতৃত্বে ভবন নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন সংস্থার পরিদর্শন পৃথক সময়ে না করে একই দিনে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পূর্বনির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধি ও ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে যৌথ পরিদর্শন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একই প্রতিষ্ঠানে বারবার পরিদর্শনের প্রয়োজন কমবে এবং সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে।
সভায় জানানো হয়, ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন, পারমিট ও লাইসেন্স প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিভিন্ন সংস্থার কাজের দ্বৈততা দূর করতে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনা করে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য খাতেও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈধ ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে কাজ করা বিদেশি নাগরিকদের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নে অযৌক্তিক জটিলতা থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত কর পরিশোধ করে এবং প্রয়োজনীয় আবেদন ও প্রত্যয়ন দেওয়ার পরও এ ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ, অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করা জরুরি। বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা সহজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।























