বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়াচ্ছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র, কমবে শুল্ক
- আপডেট সময় ১০:৫৬:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 26
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দেশ পরস্পরের আমদানি করা প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি চলমান বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশ দুটি।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে কোন পণ্যে কতটা শুল্ক কমানো হবে এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার রোববার এক বিবৃতিতে জানান, দুই দেশই ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের তালিকা তৈরি করেছে। এসব পণ্যে শুল্ক কমানোর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে চীনের বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রবেশের সুযোগ বাড়বে বলেও জানান তিনি।
চীনের প্রস্তাবিত তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা, গম, জোয়ার, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল ও তেলবীজের খৈল রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য সয়াবিন এই তালিকায় রাখা হয়নি। ২০২৫ সালে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন আমদানি করেছিল।
সয়াবিন শুল্ক কমানোর তালিকায় না থাকায় হতাশা জানিয়েছে আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির মতে, চীনের ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বহাল থাকায় দেশটিতে মার্কিন সয়াবিনের বাজার সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে। শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে চীনের বেসরকারি ক্রেতাদের জন্যও মার্কিন সয়াবিন কেনার সুযোগ বাড়ত।
এদিকে শুল্ক কমানোর ঘোষণায় সয়াবিন অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে এর ফিউচার মূল্য কমেছে। সোমবার বাজারে সয়াবিনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। শুল্ক নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের আগের কেনা চুক্তি থেকে সরে আসাকে এর কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা মাছ ও সামুদ্রিক খাবার, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, প্রসাধনসামগ্রী এবং চিকিৎসা সরঞ্জামে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছে চীন।
একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও চীন থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কফি তৈরির মেশিন, টোস্টার, টেবিলওয়্যার, কম্বল, বিছানার চাদর ও বিভিন্ন ধরনের খেলনা। তালিকায় শিশুদের সাইকেল, আতশবাজি, কৃত্রিম ফুল, উৎসবের সাজসজ্জার সামগ্রী এবং শিশুদের গাড়ির আসনও রয়েছে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা খেলনা আমদানির মূল্য ছিল ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তবে উচ্চ শুল্কের কারণে ২০২৫ সালে তা কমে ৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনসাস ব্যুরো।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ফলে দুই দেশ বিদ্যমান সমঝোতা পর্যালোচনা এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিরোধ সমাধানে আরও সময় পাবে। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়বে এবং বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা কমবে।
এ ছাড়া সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি বাণিজ্যনীতিতে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হবে।
সূত্র: রয়টার্স























