ভারতে পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ
- আপডেট সময় ০৮:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 0
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৫২টি মাদরাসার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন মাদরাসার পরিচালনা ও কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের পর প্রথম ধাপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কথিত ‘অসঙ্গতি’র অভিযোগে আরও ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত যাচাইয়ে মাদরাসাগুলোর পরিচালনা ব্যবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, অবকাঠামো এবং অর্থের উৎসসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
আদিবাসী ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতর সূত্রে জানা গেছে, কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের ২২টি জেলায় এই তদন্ত চালানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি রাজ্য পর্যায়ের বিশেষ পরিদর্শক দলও বিভিন্ন মাদরাসায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে।
তথ্য যাচাইয়ের পর প্রথম ধাপে ২৫২টি মাদরাসাকে অবিলম্বে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কলকাতাসহ ২২ জেলার মাদরাসাগুলো থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। যেসব মাদরাসার অনুমোদন রয়েছে, সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী চালু রয়েছে।
তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা বা অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দফতর সূত্রে জানা গেছে।
মাদরাসাগুলো নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্কের কথাও তুলে ধরেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তার দাবি, অতীতে উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছু মাদরাসা থেকে ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপ’ পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে।
বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ঘটনার পর মাদরাসাগুলোর ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ ওঠায় এবার ব্যাপকভাবে যাচাই করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
দিলীপ ঘোষ বলেন, যারা সরকারের অনুমতি নিয়ে নিয়ম মেনে মাদরাসা পরিচালনা করছেন, সেগুলো চালু থাকবে। তবে অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র মাদরাসা প্রতিষ্ঠার সুযোগ সরকার দেবে না। এ কারণেই যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্নের একটি সূত্র জানিয়েছে, অনুমোদিত ও নিয়ম মেনে পরিচালিত মাদরাসাগুলোর ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না। তবে নথিপত্র, পরিচালনা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের তথ্য বা অর্থের উৎসে গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে মুসলিমবিরোধী নীতি গ্রহণের অভিযোগও তোলা হয়েছে। সেখানে কুরবানি ও মসজিদে মাইকে আজান বন্ধের পর মাদরাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

























