এআই সব গণিত সমাধান করলে আমি রোমান্টিক উপন্যাস লিখব: দেং ইউর
- আপডেট সময় ০১:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 23
২০২৬ সালের ফিল্ডস মেডালজয়ী চীনা গণিতবিদ দেং ইউ এআই নিয়ে গণিতবিদদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের প্রসঙ্গে রসিকতা করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি একদিন গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলে, তাহলে তিনি বাড়ি ফিরে ‘ইউরি’ উপন্যাস লিখবেন।
৩৭ বছর বয়সী এই গণিতবিদ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘এআই যদি গণিতের সব সমস্যার সমাধান করেই দেয়, তাহলে আমি বাড়ি গিয়ে আমার “ইউরি” উপন্যাস লিখব।’
‘ইউরি’ জাপানি উপন্যাস ও কমিকসের একটি বিশেষ ধারা, যেখানে নারীদের মধ্যকার অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। দেং ইউ এ ধরনের কাজের বড় ভক্ত হিসেবে পরিচিত।
তার ওই পোস্ট পরে চীনের আরেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেং লিখেছেন, এআই গণিতবিদদের মধ্যে একধরনের ‘অস্থিরতা ও অধৈর্যতার পরিবেশ’ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে এই ধাক্কা সামলে উঠলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিষ্কার হবে। গণিতও স্বাভাবিক নিয়মে ধীরগতিতে এআইয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেবে। একই সঙ্গে নতুন একটি ইকোসিস্টেমও ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে।
তবে নিজের ‘ইউরি উপন্যাস’ লেখার পরিকল্পনা নিয়ে দেং পরে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে স্পষ্ট করেন, তিনি বর্তমানে কোনো উপন্যাস লিখছেন না। পুরো মন্তব্যটিই ছিল রসিকতা।
দেং বলেন, তার মনে হয় না এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারবে। অন্তত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি যেসব সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর ক্ষেত্রেও এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।
এর মধ্যেই গণিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর ওপেনএআই জানায়, তাদের একটি মডেল ব্যবহার করে নেভিয়ার-স্টোকস মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেমের সমাধান করা হয়েছে। আধুনিক গণিতের সবচেয়ে জটিল ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর একটি এটি।
২০০০ সালের ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লে ম্যাথমেটিক্স ইনস্টিটিউট গণিতের সাতটি বড় চ্যালেঞ্জকে ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেম’ হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতিটি সমস্যার সমাধানের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে।
২০০৩ সালে রুশ গণিতবিদ গ্রিগরি পেরেলমান পয়েনকেয়ার কনজেকচার নামের একটি সমস্যা সমাধান করেন। তবে তিনি এ সমস্যার জন্য ঘোষিত অর্থ এবং পরবর্তীতে পাওয়া ফিল্ডস মেডাল—দুটিই প্রত্যাখ্যান করেন।
এখন মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেমের দ্বিতীয় কোনো সমস্যার সমাধানও হয়ে থাকতে পারে। তবে এবার সেটি কোনো একক মানুষের হাতে নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় হয়েছে বলে দাবি করছে ওপেনএআই।
ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাধানটি তৈরি করা হয়েছে তাদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না পাওয়া পরবর্তী প্রজন্মের একটি মডেল দিয়ে। মডেলটি একটানা ৮৮ ঘণ্টা কাজ করেছে। এ সময়ে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন আউটপুট টোকেন ব্যবহার করা হয়েছে, যার মূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার।
তবে এ দাবি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। একই সমস্যা নিয়ে কাজ করা এক গণিতবিদ দাবি করেছেন, তার গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে জানার পরই ওপেনএআই এ বিষয়ে নিজেদের প্রচেষ্টা শুরু করে।
৮ সেপ্টেম্বর সায়েন্টিফিক আমেরিকানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওপেনএআই তাদের প্রমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগের রাতে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গণিতের অধ্যাপক ট্রিস্টান বাকমাস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি ও অ্যানথ্রোপিকের গবেষক লেভেন্ট আলপোগে অয়লার সমীকরণের একটি প্রমাণ সম্পন্ন করেছেন।
নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অয়লার সমীকরণকে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচনা করেন গণিতবিদরা। বাকমাস্টার জানান, তিনি ও তার সহযোগী এআইয়ের একাধিক মডেল ব্যবহার করে সমীকরণগুলো সমাধানের কাজ করেছেন। এর মধ্যে ওপেনএআইয়ের একটি মডেলও ছিল।
সোমবার এক বিবৃতিতে বাকমাস্টার দাবি করেন, তার ও সহযোগীদের অগ্রগতির বিষয়ে ওপেনএআই এক সপ্তাহ আগেই জানতে পেরেছিল। এরপর পুরো সমস্যাটি সমাধানে তারা ওই গণিতবিদদের ব্যবহৃত পদ্ধতিই অনুসরণ করে।
তবে ওপেনএআই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, তারা স্বাধীনভাবেই অয়লার সমীকরণগুলোর প্রমাণ সম্পন্ন করেছে। যদিও অন্য গণিতবিদদের কাজ থেকে কোনো ধারণা পাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি অস্বীকার করেনি প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ভাষ্য, তাদের পণ্য ব্যবহারের সময় নাম-পরিচয়হীন তথ্য হয়তো মডেলগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
এদিকে আমেরিকান ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি মঙ্গলবার জানিয়েছে, আলপোগে ও বাকমাস্টার নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করলেও চূড়ান্ত প্রমাণটি ওপেনএআইয়ের গণিতবিদরাই সম্পন্ন করেছেন।

























