নেপাল-তিব্বতে উপচে পড়ছে হ্রদ, পালাচ্ছেন মানুষ
- আপডেট সময় ০৪:০৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 20
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভূমিধসে সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করায় ভাটি অঞ্চলে নতুন করে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কায় নেপালের রাসুয়া জেলার ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চলসহ সীমান্তসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।
সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আশঙ্কায় নেপাল ও তিব্বত—দুই অংশেই উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের জলচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় চীনের উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় যানবাহন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে। নেপাল অংশেও উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
চীনা প্রকৌশলীদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হ্রদটিতে আটকে থাকা পানির পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটারে পৌঁছেছে। আগের দিনের তুলনায় এই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দল আকাশপথে ড্রোন ব্যবহার করে হ্রদের ত্রিমাত্রিক নকশা তৈরি করছে।
নেপালের রাসুয়া জেলার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, হ্রদের পানি বাড়তে থাকায় স্থানীয় জনপদে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে পানির উচ্চতাও ক্রমে বাড়ছে।
এদিকে চীনের জিরং কাউন্টিতে ধ্বংসস্তূপ জমে থাকায় শুক্রবার পর্যন্ত সীমান্ত পারাপার এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি চীনা উদ্ধারকর্মীরা। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের ওই অংশে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। সেখানে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে গত বুধবার হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি নদী দিয়ে কাদা, পাথর ও বরফের তীব্র স্রোত নেমে আসে। এতে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আকস্মিক বন্যায় কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে যুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, কালভার্ট ও পাকা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
হিমালয় অঞ্চলের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে জরুরি সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিস্থিতিকে অভূতপূর্ব উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এত ভয়াবহ ধ্বংস আগে দেখা যায়নি। নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি দেশটির নেতাদের জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।





















