যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতায় কাতার
- আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 21
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকায় এবার পাকিস্তানের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে কাতার। বৃহস্পতিবার তেহরান সফরে গিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানি ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বানের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় মূলত পাকিস্তানকে সক্রিয় দেখা গেছে। পাকিস্তানের উদ্যোগে দুই দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও পরে সেগুলো ভেঙে আবারও পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে দুই দেশ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ছয় মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত চলছে। এ সময় ইরানি ও মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী পরস্পরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এর মধ্যেই গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। ওইদিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আর আলোচনা চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয়।
তবে একই বক্তব্যে ট্রাম্প আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচও করেননি। তিনি বলেন, ইরান ফলপ্রসূ আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্র তা বিবেচনা করবে। ততদিন অর্থনৈতিক অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।
এই পরিস্থিতিতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার চার দিন পর তেহরানে পৌঁছান কাতারের প্রধানমন্ত্রী আল-থানি। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত কাতারের এই সফরে তিনি ইরানের শীর্ষ আলোচক ও দেশটির অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে আল-থানি ইরানকে আবারও কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান। জবাবে ঘালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তেহরান আবার কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে পারে।
আল-থানি ও ঘালিবাফের বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নির্বাহী প্রধান মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়িও উপস্থিত ছিলেন।
রেজায়ি জানান, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই আলোচনায় আগ্রহী হয়, তাহলে ইরানের হরমুজসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই সেই আলোচনা শুরু করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ করলে মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর হামলা চালানো হবে বলেও সতর্ক করেন রেজায়ি।
এর আগে চলমান সংঘাতের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দেয় ইরান। যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্তের তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিক জলপথ থেকে টোল আদায় করা যায় না। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন করেছে।
তেহরান সফর শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আল-থানি জানান, ইরানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও নৌযানের অবাধ চলাচলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
এ ছাড়া প্রণালির মধ্য দিয়ে একটি অস্থায়ী যৌথ ইরান-ওমানি নৌ-পরিবহন করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং মাইন অপসারণে একটি যৌথ প্রকল্প নিয়েও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করলেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে পারে। তার আগে কোনো কূটনৈতিক সংলাপ হবে না বলে জানান তিনি।
রয়টার্সকে লিভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে এবং এখন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ চলছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।






















