ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ইরান যুদ্ধের ব্যয় কংগ্রেসের কাছে চাইল ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / 13

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জরুরি ব্যয় মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কংগ্রেসে সমালোচনামূলক একটি প্রস্তাব পাস হওয়ার একদিন পর এই অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হলো।

বুধবার (২৪ জুন) প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে হোয়াইট হাউসের বাজেট ও ব্যবস্থাপনা দপ্তর (অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট) জানায়, প্রস্তাবিত অর্থের বড় অংশ ইরান অভিযান-সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা হবে।

প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গোলাবারুদ সংগ্রহে ২১ বিলিয়ন ডলার, পরিচালন ব্যয়ে ১৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিভিন্ন শ্রেণিবদ্ধ কর্মসূচির জন্য ১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না: ট্রাম্প

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিখাতকে সহায়তা দিতে ১১ বিলিয়ন ডলার এবং মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর হামলার ঝুঁকিতে থাকা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। বাজেট দপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযানের পর পেন্টাগনের অস্ত্র ও সরঞ্জামের মজুত পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

তবে এই অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ কংগ্রেসে সহজে অনুমোদন পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমত বিভক্ত এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা রিপাবলিকান দলের ভেতরেও দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে তার প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে দলটির কয়েকজন সদস্য প্রশ্ন তোলেন।

বুধবার সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক ভোটের সমালোচনা করেন। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে পাস হওয়া ওই প্রস্তাবকে মূলত প্রতীকী হিসেবে দেখা হলেও এটি ছিল সামরিক অভিযান নিয়ে কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান।

বৈঠকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেওয়া চার রিপাবলিকান সিনেটরের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। পরে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর বিল ক্যাসিডি জানান, বৈঠকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে।

ক্যাসিডির ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও তা দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর সব এখনো অর্জিত হয়নি।

এর আগে ন্যাটোর মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকেও ট্রাম্প যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট গত মাসে কংগ্রেসের এক শুনানিতে জানান, সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও কয়েকজন আইনপ্রণেতার মতে, প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে এবং সরকারি হিসাব পুরো চিত্র তুলে ধরে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান যুদ্ধের ব্যয় কংগ্রেসের কাছে চাইল ট্রাম্প

আপডেট সময় ১২:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জরুরি ব্যয় মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কংগ্রেসে সমালোচনামূলক একটি প্রস্তাব পাস হওয়ার একদিন পর এই অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হলো।

বুধবার (২৪ জুন) প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে হোয়াইট হাউসের বাজেট ও ব্যবস্থাপনা দপ্তর (অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট) জানায়, প্রস্তাবিত অর্থের বড় অংশ ইরান অভিযান-সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা হবে।

প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গোলাবারুদ সংগ্রহে ২১ বিলিয়ন ডলার, পরিচালন ব্যয়ে ১৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিভিন্ন শ্রেণিবদ্ধ কর্মসূচির জন্য ১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না: ট্রাম্প

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিখাতকে সহায়তা দিতে ১১ বিলিয়ন ডলার এবং মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর হামলার ঝুঁকিতে থাকা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। বাজেট দপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযানের পর পেন্টাগনের অস্ত্র ও সরঞ্জামের মজুত পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

তবে এই অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ কংগ্রেসে সহজে অনুমোদন পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমত বিভক্ত এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা রিপাবলিকান দলের ভেতরেও দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে তার প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে দলটির কয়েকজন সদস্য প্রশ্ন তোলেন।

বুধবার সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক ভোটের সমালোচনা করেন। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে পাস হওয়া ওই প্রস্তাবকে মূলত প্রতীকী হিসেবে দেখা হলেও এটি ছিল সামরিক অভিযান নিয়ে কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান।

বৈঠকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেওয়া চার রিপাবলিকান সিনেটরের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। পরে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর বিল ক্যাসিডি জানান, বৈঠকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে।

ক্যাসিডির ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও তা দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর সব এখনো অর্জিত হয়নি।

এর আগে ন্যাটোর মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকেও ট্রাম্প যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট গত মাসে কংগ্রেসের এক শুনানিতে জানান, সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও কয়েকজন আইনপ্রণেতার মতে, প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে এবং সরকারি হিসাব পুরো চিত্র তুলে ধরে না।