ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের গালাগাল নিয়ে যা বললেন নেতানিয়াহু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০১:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 0

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তৈরি হওয়া গুরুতর বিরোধের খবরকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে মাঝে মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হলেও তা মূলত কৌশলগত বিষয় নিয়ে এবং শেষ পর্যন্ত তারা আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌথ সমাধানে পৌঁছাতে সক্ষম হন। গত বুধবার (৩ জুন ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন।

এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে এক দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপে ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অত্যন্ত কঠোর ও অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। ওই সময় মার্কিন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছিল। গণমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে, তিনি বদ্ধ উন্মাদ এবং ট্রাম্প না থাকলে নেতানিয়াহুকে কারাগারে থাকতে হতো। ট্রাম্প তাকে বাঁচিয়ে রাখছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সবাই তাকে ও ইসরাইলকে ঘৃণা করছে বলেও ওই ফোনালাপে উল্লেখ করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ পায়।
তবে পরবর্তীতে ট্রাম্প এই বিষয়টিকে কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করে জানান যে, তিনি রাগান্বিত ছিলেন না, তবে ইরানের সঙ্গে সংবেদনশীল আলোচনা চলাকালে ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক কর্মকাণ্ডে তিনি কিছুটা বিরক্ত ছিলেন।

সাক্ষাৎকারে এই বড় ধরনের দ্বন্দ্বের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, মতবিরোধ থাকলেও দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় রয়েছে। তিনি বলেন, সেরা পরিবারগুলোর মধ্যেও কখনো কখনো কৌশলগত মতবিরোধ হয়ে থাকে, তবে তারা সবসময় তা সমাধানের পথ খুঁজে নেন এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই এগিয়ে যান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারা সকালে কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও বিকেলের মধ্যেই আবার একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে পারেন।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার অস্ত্রবিরতির আলোচনা

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করছিল, তখনই দুই নেতার মধ্যে ওই উত্তপ্ত কথোপকথনটি হয়েছিল। সে সময় ইরান লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে কারণ দেখিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করে দেয়। বিশেষ করে বৈরুতে হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনায় তেহরান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।
নেতানিয়াহু তার সাক্ষাৎকারের একটি বড় অংশজুড়ে ইরান প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর বিষয়ে তিনি ও ট্রাম্প সম্পূর্ণ একই অবস্থানে রয়েছেন।

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং সেই অস্ত্র দিয়ে ইসরাইলকে হুমকি দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া তাদের অভিন্ন লক্ষ্য। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের নেতৃত্ব ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরে অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পকে ইসরাইলের ‘সবচেয়ে বড় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে নেতানিয়াহু জানান, তাদের দুজনের মধ্যে প্রায় প্রতি দুই দিন অন্তর নিয়মিত যোগাযোগ হয়ে থাকে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সার্বিক উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার মাঠপর্যায়ের সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। অন্যদিকে ইরান বারবার স্পষ্ট করেছে যে, লেবাননের পরিস্থিতি ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরস্পর সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি যেকোনো সমঝোতায় উভয় বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এরই মধ্যে গত বুধবার উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ইরান কুয়েতে নতুন হামলা চালিয়েছে এবং একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্পের গালাগাল নিয়ে যা বললেন নেতানিয়াহু

আপডেট সময় ০১:০১:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তৈরি হওয়া গুরুতর বিরোধের খবরকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে মাঝে মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হলেও তা মূলত কৌশলগত বিষয় নিয়ে এবং শেষ পর্যন্ত তারা আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌথ সমাধানে পৌঁছাতে সক্ষম হন। গত বুধবার (৩ জুন ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন।

এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে এক দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপে ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অত্যন্ত কঠোর ও অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। ওই সময় মার্কিন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছিল। গণমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে, তিনি বদ্ধ উন্মাদ এবং ট্রাম্প না থাকলে নেতানিয়াহুকে কারাগারে থাকতে হতো। ট্রাম্প তাকে বাঁচিয়ে রাখছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সবাই তাকে ও ইসরাইলকে ঘৃণা করছে বলেও ওই ফোনালাপে উল্লেখ করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ পায়।
তবে পরবর্তীতে ট্রাম্প এই বিষয়টিকে কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করে জানান যে, তিনি রাগান্বিত ছিলেন না, তবে ইরানের সঙ্গে সংবেদনশীল আলোচনা চলাকালে ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক কর্মকাণ্ডে তিনি কিছুটা বিরক্ত ছিলেন।

সাক্ষাৎকারে এই বড় ধরনের দ্বন্দ্বের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, মতবিরোধ থাকলেও দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় রয়েছে। তিনি বলেন, সেরা পরিবারগুলোর মধ্যেও কখনো কখনো কৌশলগত মতবিরোধ হয়ে থাকে, তবে তারা সবসময় তা সমাধানের পথ খুঁজে নেন এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই এগিয়ে যান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারা সকালে কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও বিকেলের মধ্যেই আবার একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে পারেন।

আরও পড়ুন  মোদির সঙ্গে বন্ধুত্ব থেকে শীতল যুদ্ধ: ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করছিল, তখনই দুই নেতার মধ্যে ওই উত্তপ্ত কথোপকথনটি হয়েছিল। সে সময় ইরান লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে কারণ দেখিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করে দেয়। বিশেষ করে বৈরুতে হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনায় তেহরান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।
নেতানিয়াহু তার সাক্ষাৎকারের একটি বড় অংশজুড়ে ইরান প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর বিষয়ে তিনি ও ট্রাম্প সম্পূর্ণ একই অবস্থানে রয়েছেন।

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং সেই অস্ত্র দিয়ে ইসরাইলকে হুমকি দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া তাদের অভিন্ন লক্ষ্য। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের নেতৃত্ব ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরে অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পকে ইসরাইলের ‘সবচেয়ে বড় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে নেতানিয়াহু জানান, তাদের দুজনের মধ্যে প্রায় প্রতি দুই দিন অন্তর নিয়মিত যোগাযোগ হয়ে থাকে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সার্বিক উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার মাঠপর্যায়ের সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। অন্যদিকে ইরান বারবার স্পষ্ট করেছে যে, লেবাননের পরিস্থিতি ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরস্পর সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি যেকোনো সমঝোতায় উভয় বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এরই মধ্যে গত বুধবার উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ইরান কুয়েতে নতুন হামলা চালিয়েছে এবং একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানা গেছে।