নাকবা দিবসে উত্তাল লন্ডন: গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
- আপডেট সময় ১২:১৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / 65
যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল লন্ডনে ঐতিহাসিক নাকবা দিবসের ৭৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় নিজেদের মাতৃভূমি থেকে সাড়ে ৭ লাখ ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ ও নির্বিচারে হত্যার ঘটনা স্মরণে ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন’সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের জোট এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
শনিবার (১৬ মে) সেন্ট্রাল লন্ডনের রাস্তায় ফিলিস্তিনি পতাকা ও ঐতিহ্যবাহী কেফিয়্যাহ জড়িয়ে গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন লাখো বিক্ষোভকারী।
এদিকে ফিলিস্তিনপন্থি এই বিশাল মিছিলের সমসময়েই লন্ডনে কট্টর ডানপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট টমি রবিনসনের নেতৃত্বে ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ নামের একটি কট্টর ডানপন্থি সংগঠন পৃথক একটি পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। কট্টর ডানপন্থিদের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সেন্ট্রাল লন্ডনে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং যেকোনো ধরনের বড় সংঘাত এড়াতে মেট্রোপলিটন পুলিশ শহরজুড়ে ৪ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে, যাকে পুলিশ প্রশাসন ‘নজিরবিহীন’ গণ-নিরাপত্তা অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। পৃথক রুট নির্ধারণ ও কঠোর পুলিশি নজরদারির কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি কোনো সংঘর্ষ না হলেও বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দুই বিক্ষোভস্থল থেকে অন্তত ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নাকবা দিবসের এই সমাবেশে অংশ নিয়ে যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করেন বিশিষ্ট রাজনীতিকেরা। সমাবেশে বক্তব্য দেন ‘ইউর পার্টি’র এমপি জারা সুলতানা ও জেরেমি করবিন, স্বতন্ত্র এমপি ডায়ান অ্যাবট এবং লেবার পার্টির প্রবীণ এমপি জন ম্যাকডোনেল। ম্যাকডোনেল সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-কে বলেন, “নাকবা দিবসের এই মিছিলটি এবার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গাজায় এখনও গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে এবং অন্যদিকে লন্ডনের রাস্তায় কট্টর ডানপন্থিরা বর্ণবাদী মিছিল করছে।
আমাদের উচিত যুক্তরাজ্য সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখা, কারণ তারা এখনও ইসরায়েলকে মারাত্মক অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।” এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যে ক্রমবর্ধমান ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা ইসলামভীতি দমনে লেবার পার্টির উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া গাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থী অধিকারকর্মী হালা হানিনা বলেন, “১৯৪৮ সালের সেই নাকবা বা বিপর্যয় আজও ফিলিস্তিনিদের জীবনে থামেনি। ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার ঠিক আগে আমি গাজা থেকে পালিয়ে আসি। বর্তমানে গাজা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপ এবং পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও ভয়াবহ। আমাদের স্বজনেরা প্রতিদিন মরছে, তাই এই প্রতিরোধ মিছিল চালিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য জরুরি।”
লন্ডন মেট পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জেমস হারম্যান জানান, যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও ঘৃণা ছড়ানো রুখতে এই কর্মসূচিতে পুলিশকে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের সন্দেহ ছাড়াই যেকোনো ব্যক্তিকে তল্লাশি করার অতিরিক্ত আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে কোনো বড় গণ-বিক্ষোভে প্রথমবারের মতো লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মুখাবয়ব শনাক্তকরণ) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। একই দিনে উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যকার মর্যাদাপূর্ণ এফএ কাপ ফাইনাল থাকায় পুলিশকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।























