ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

ট্যাঙ্কারে মার্কিন বিমান হামলা, ইরানের পাল্টা জবাব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৫২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • / 90

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাঝেই ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বড় ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইরানের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে তেহরান দাবি করার পর তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাতের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন  মার্কিন গাড়ি শিল্পে স্বস্তি আনতে শুল্ক হ্রাসের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতামুল-আম্বিয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র কিছু আঞ্চলিক দেশের সহযোগিতায় কেশম দ্বীপসহ বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, মার্কিন ‘দস্যু বাহিনী’ ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার জবাবে চালানো পাল্টা হামলায় মার্কিন জাহাজগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা এই অভিযানে উচ্চ-বিস্ফোরক ওয়ারহেড সমৃদ্ধ ড্রোন এবং অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা বিনা উসকানিতে চালানো ইরানি আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, তারা কেবল ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে এবং এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, তারা অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে চায় না, তবে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে তারা সর্বদা প্রস্তুত।

মূলত ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় এই সংঘাত শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইরানের বেশ কয়েকটি জাহাজ জব্দ করা এবং কয়েক ডজন জাহাজকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাস এবং মিনাবের বন্দর এলাকাগুলোতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ইরানি হামলার মুখে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার ওমান উপসাগরের দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

এমন এক সময়ে এই ভয়াবহ সংঘর্ষের খবর এলো যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধ অবসানে একটি উন্নত পর্যায়ের আলোচনার দ্বারপ্রান্তে ছিল। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধ ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সাতটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছিল, যার বিপরীতে ইরানও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছিল। এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাঙ্কারে মার্কিন বিমান হামলা, ইরানের পাল্টা জবাব

আপডেট সময় ০৮:৫২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাঝেই ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বড় ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইরানের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে তেহরান দাবি করার পর তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাতের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন  ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের: মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতামুল-আম্বিয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র কিছু আঞ্চলিক দেশের সহযোগিতায় কেশম দ্বীপসহ বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, মার্কিন ‘দস্যু বাহিনী’ ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার জবাবে চালানো পাল্টা হামলায় মার্কিন জাহাজগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা এই অভিযানে উচ্চ-বিস্ফোরক ওয়ারহেড সমৃদ্ধ ড্রোন এবং অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা বিনা উসকানিতে চালানো ইরানি আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, তারা কেবল ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে এবং এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, তারা অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে চায় না, তবে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে তারা সর্বদা প্রস্তুত।

মূলত ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় এই সংঘাত শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইরানের বেশ কয়েকটি জাহাজ জব্দ করা এবং কয়েক ডজন জাহাজকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাস এবং মিনাবের বন্দর এলাকাগুলোতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ইরানি হামলার মুখে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার ওমান উপসাগরের দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

এমন এক সময়ে এই ভয়াবহ সংঘর্ষের খবর এলো যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধ অবসানে একটি উন্নত পর্যায়ের আলোচনার দ্বারপ্রান্তে ছিল। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধ ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সাতটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছিল, যার বিপরীতে ইরানও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছিল। এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।