ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থ ছাড় এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেবে মার্কিনিরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / 102

ছবি সংগৃহীত

 

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও যুদ্ধাবস্থা অবসানের পথে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজের বিশ্বাস, মাত্র এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতামূলক স্মারকের মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব। বুধবার (৬ মে) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারকটিতে ১৪টি দফা রয়েছে। দুই পক্ষ এতে রাজি হলে পারস্পরিক বেশ কিছু পদক্ষেপ কার্যকর হবে:
ইরানের পদক্ষেপ: ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি দেবে এবং হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেবে। পাশাপাশি তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ: বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, জব্দ করা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছাড় দেবে এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশে ফেরত এলেন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থাকা ৩৯ নাগরিক

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং জার্ড ক্রুশনার বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলোচনায় অগ্রগতির ফলে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নতুন সামরিক অভিযান থেকে সরে এসেছেন বলে জানা গেছে। এই সমঝোতা প্রক্রিয়াটি সফল হলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পাকিস্তান (ইসলামাবাদ) অথবা সুইজারল্যান্ডে (জেনেভা) চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

ইরান কতদিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে তা নিয়ে এখনো দরকষাকষি চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের কথা বললেও ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছিল; বর্তমানে ১২ থেকে ১৫ বছরের একটি সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া ইরানকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

যদিও দুই দেশ বর্তমানে সমঝোতার সবথেকে নিকটতম অবস্থানে রয়েছে, তবুও মার্কিন কর্মকর্তারা কিছুটা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইরানি নেতৃবৃন্দের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এই চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা হতে পারে। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া বা পরিস্থিতি অমিমাংসিত থাকার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও নৌ-অবরোধ ও সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের পথ খোলা রাখবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থ ছাড় এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেবে মার্কিনিরা

আপডেট সময় ০৭:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

 

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও যুদ্ধাবস্থা অবসানের পথে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজের বিশ্বাস, মাত্র এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতামূলক স্মারকের মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব। বুধবার (৬ মে) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারকটিতে ১৪টি দফা রয়েছে। দুই পক্ষ এতে রাজি হলে পারস্পরিক বেশ কিছু পদক্ষেপ কার্যকর হবে:
ইরানের পদক্ষেপ: ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি দেবে এবং হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেবে। পাশাপাশি তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ: বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, জব্দ করা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছাড় দেবে এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়; লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং জার্ড ক্রুশনার বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলোচনায় অগ্রগতির ফলে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নতুন সামরিক অভিযান থেকে সরে এসেছেন বলে জানা গেছে। এই সমঝোতা প্রক্রিয়াটি সফল হলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পাকিস্তান (ইসলামাবাদ) অথবা সুইজারল্যান্ডে (জেনেভা) চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

ইরান কতদিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে তা নিয়ে এখনো দরকষাকষি চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের কথা বললেও ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছিল; বর্তমানে ১২ থেকে ১৫ বছরের একটি সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া ইরানকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

যদিও দুই দেশ বর্তমানে সমঝোতার সবথেকে নিকটতম অবস্থানে রয়েছে, তবুও মার্কিন কর্মকর্তারা কিছুটা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইরানি নেতৃবৃন্দের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এই চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা হতে পারে। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া বা পরিস্থিতি অমিমাংসিত থাকার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও নৌ-অবরোধ ও সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের পথ খোলা রাখবে।