ইরানের সাথে সংঘাত শেষ হয়েছে বলে কংগ্রেসকে জানালেন ট্রাম্প
- আপডেট সময় ০৯:৫২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
- / 22
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাত ‘শেষ হয়েছে’ বলে কংগ্রেসকে এক চিঠিতে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের যে নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা রয়েছে, তা পালনে তিনি আর বাধ্য নন। ট্রাম্পের এমন অবস্থান মার্কিন আইন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলিউশন’ অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট সামরিক অভিযান শুরু করলে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়; অন্যথায় সেনা প্রত্যাহার বা কার্যক্রম বন্ধের বাধ্যবাধকতা থাকে। শুক্রবার (১ মে) ছিল এই সময়সীমার শেষ দিন। তবে কংগ্রেস নেতাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ফলে আইনি সময়সীমার ‘ঘড়ি থেমে গেছে’। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৭ এপ্রিলের পর থেকে কোনো গোলাগুলি হয়নি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘর্ষের সমাপ্তি ঘটেছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে কথা বলেছি, তবে আমি এখনো সন্তুষ্ট নই।” তিনি আরও দাবি করেন, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হারিয়ে ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে ‘বিশৃঙ্খল অবস্থায়’ রয়েছে, যা নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন করে তুলছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে তাকে ‘পুরো ধ্বংস করা’ অথবা ‘সমঝোতা’—এই দুটি বিকল্প দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, তেহরান ইসলামাবাদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে। যদিও এই প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো অপ্রকাশিত। অন্যদিকে, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানকে কোনো ‘টোল’ প্রদান করা হলে তা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার তীব্র বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কাইনি। তিনি জানান, আইন এ ধরনের কোনো ব্যাখ্যা সমর্থন করে না। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক হেদার ব্র্যান্ডন-স্মিথও মনে করেন, যুদ্ধবিরতি কোনো স্থায়ী সমাপ্তি নয়; তাই আইনি সময়সীমা থেমে যাওয়ার দাবিটি প্রশ্নবিদ্ধ।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিনের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের জেরে এই যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলেও ইরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।











