দুই শিক্ষার্থীর স্মরণে ক্যাম্পাসের স্মৃতিস্তম্ভে নাম খোদাইয়ের ঘোষণা
- আপডেট সময় ১০:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
- / 16
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল আহমেদের (লিমন) মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্প্রতি পিনেলাস কাউন্টিতে উদ্ধার হওয়া দেহাংশ নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির বলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করার পর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট শোকবার্তায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
শোকবার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট বলেন, “নাহিদার মৃত্যুর খবর আমাদের জন্য এক অপূরণীয় শোক নিয়ে এসেছে। নাহিদা ও জামিল ছিলেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণীয় শিক্ষার্থী। তারা তাদের মেধা ও প্রাণচাঞ্চল্য দিয়ে ক্যাম্পাসে এক সুন্দর কমিউনিটি গড়ে তুলেছিলেন।”
তিনি আরও জানান, দুই শিক্ষার্থীর অবদান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সবসময় স্মরণ করবে। তাদের সম্মানার্থে ক্যাম্পাসের স্মৃতিস্তম্ভে নাম খোদাই করা হবে এবং প্রতিবছর বিশেষ স্মরণসভায় তাদের স্মরণ করা হবে।
নাহিদা ও জামিলের স্মরণে শুক্রবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিসেন্ট হিল এলাকায় এক বিশাল শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একটি ব্যক্তিগত তহবিল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জামিল ও নাহিদার মরদেহ দেশে পাঠানো এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট জেনারেলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে শেরিফ অফিসকে সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি না থাকলেও, অফ-ক্যাম্পাস আবাসনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা কাউন্সিলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি—উভয়ই ইউএসএফের পিএইচডি ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল লিমনের টাম্পার বাসা থেকে তাদের সর্বশেষ দেখা যাওয়ার পর থেকেই তারা নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে শুক্রবার (১ মে) সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন পৃথক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় হিশাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার বিরুদ্ধে আলামত নষ্ট করা ও মৃতদেহ সরানোর গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।















