ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

বাংলাদেশে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায়, জাপানি কনসোর্টিয়ামের নতুন প্রস্তাব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 118

ছবি: সংগৃহীত

 

 

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা: বাংলাদেশকে আয়ের ভাগ দেওয়ার প্রস্তাব জাপানি কনসোর্টিয়ামের

আরও পড়ুন  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সৌদি আরবের মধ্যস্থতা প্রস্তাব: অদূর ভবিষ্যতে সম্ভাবনা

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে জাপানি কনসোর্টিয়াম। সুমিতোমো করপোরেশনের নেতৃত্বাধীন এই জোট টার্মিনাল থেকে অর্জিত মোট রাজস্ব আয়ের ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। গত ৩ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তবে বাংলাদেশ সরকার এই প্রস্তাবকে আরও পর্যালোচনার জন্য জাপানি প্রতিনিধি দলকে অনুরোধ জানিয়েছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, জাপানি কনসোর্টিয়ামটি ১৫ বছরের জন্য থার্ড টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সময়ের মধ্যে টার্মিনালের আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে তারা প্রায় ১৫৯ দশমিক ৮ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে মার্চের বৈঠকে তারা রাজস্বের ১৮ শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে সাড়ে ২২ শতাংশে উন্নীত করেছে।

থার্ড টার্মিনাল থেকে আয়ের দুটি প্রধান খাত চিহ্নিত করা হয়েছে— অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল।
অ্যারোনটিক্যাল খাত: এর মধ্যে রয়েছে প্যাসেঞ্জার সার্ভিস ফি, ল্যান্ডিং চার্জ, বোর্ডিং ব্রিজ ও কার্গো সিকিউরিটি চার্জ। জাইকার সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করবে, যার সিংহভাগই আন্তর্জাতিক রুটের। বর্তমানে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থেকে গড়ে ২ হাজার ১৫৭ ডলার ল্যান্ডিং চার্জ এবং ১৩৮ ডলার বোর্ডিং ব্রিজ চার্জ আদায় করা হয়।

নন-অ্যারোনটিক্যাল খাত: শুল্কমুক্ত দোকান (ডিউটি ফ্রি), ফুড কোর্ট, বিজ্ঞাপন, কার পার্কিং ও লাউঞ্জ সুবিধা থেকে এই আয় আসবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আধুনিক বিমানবন্দরের মোট আয়ের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশই আসে এই বাণিজ্যিক খাতগুলো থেকে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জাপানি প্রতিনিধি দলকে তাদের প্রস্তাবটি পুনরায় সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি ছিল জাপানের সাথে দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এই রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

২১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালটি দীর্ঘ এক বছর ধরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত থাকলেও অপারেটর নিয়োগ না হওয়ায় তা থমকে আছে। বেবিচক কর্মকর্তাদের মতে, চুক্তি সই হওয়ার পরও কারিগরি ও বাণিজ্যিক প্রস্তুতির জন্য আরও ছয় থেকে আট মাস সময়ের প্রয়োজন। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সার্বিক বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানান, জাপানের সাথে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে রাজস্ব ভাগাভাগিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসা বাকি।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায়, জাপানি কনসোর্টিয়ামের নতুন প্রস্তাব

আপডেট সময় ১২:০৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

 

 

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা: বাংলাদেশকে আয়ের ভাগ দেওয়ার প্রস্তাব জাপানি কনসোর্টিয়ামের

আরও পড়ুন  গাজা পুনর্গঠনে মিশরের প্রস্তাব গ্রহণ করল আরব দেশগুলো, ট্রাম্পের পরিকল্পনায় অনড় যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে জাপানি কনসোর্টিয়াম। সুমিতোমো করপোরেশনের নেতৃত্বাধীন এই জোট টার্মিনাল থেকে অর্জিত মোট রাজস্ব আয়ের ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। গত ৩ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তবে বাংলাদেশ সরকার এই প্রস্তাবকে আরও পর্যালোচনার জন্য জাপানি প্রতিনিধি দলকে অনুরোধ জানিয়েছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, জাপানি কনসোর্টিয়ামটি ১৫ বছরের জন্য থার্ড টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সময়ের মধ্যে টার্মিনালের আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে তারা প্রায় ১৫৯ দশমিক ৮ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে মার্চের বৈঠকে তারা রাজস্বের ১৮ শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে সাড়ে ২২ শতাংশে উন্নীত করেছে।

থার্ড টার্মিনাল থেকে আয়ের দুটি প্রধান খাত চিহ্নিত করা হয়েছে— অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল।
অ্যারোনটিক্যাল খাত: এর মধ্যে রয়েছে প্যাসেঞ্জার সার্ভিস ফি, ল্যান্ডিং চার্জ, বোর্ডিং ব্রিজ ও কার্গো সিকিউরিটি চার্জ। জাইকার সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করবে, যার সিংহভাগই আন্তর্জাতিক রুটের। বর্তমানে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থেকে গড়ে ২ হাজার ১৫৭ ডলার ল্যান্ডিং চার্জ এবং ১৩৮ ডলার বোর্ডিং ব্রিজ চার্জ আদায় করা হয়।

নন-অ্যারোনটিক্যাল খাত: শুল্কমুক্ত দোকান (ডিউটি ফ্রি), ফুড কোর্ট, বিজ্ঞাপন, কার পার্কিং ও লাউঞ্জ সুবিধা থেকে এই আয় আসবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আধুনিক বিমানবন্দরের মোট আয়ের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশই আসে এই বাণিজ্যিক খাতগুলো থেকে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জাপানি প্রতিনিধি দলকে তাদের প্রস্তাবটি পুনরায় সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি ছিল জাপানের সাথে দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এই রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

২১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালটি দীর্ঘ এক বছর ধরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত থাকলেও অপারেটর নিয়োগ না হওয়ায় তা থমকে আছে। বেবিচক কর্মকর্তাদের মতে, চুক্তি সই হওয়ার পরও কারিগরি ও বাণিজ্যিক প্রস্তুতির জন্য আরও ছয় থেকে আট মাস সময়ের প্রয়োজন। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সার্বিক বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানান, জাপানের সাথে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে রাজস্ব ভাগাভাগিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসা বাকি।