কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা; জ্বালানি ডিপোতে ভয়াবহ আগুন
- আপডেট সময় ১২:৫৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
- / 25
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ইরানের ছোঁড়া ড্রোনের আঘাতে বিমানবন্দরের জ্বালানি স্টোরেজ ট্যাংকে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা কুনা জানিয়েছে, বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলার ফলে ফুয়েল ট্যাংকগুলোতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজহি জানান, হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও জ্বালানি মজুদের ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। জরুরি সেবা প্রদানকারী দলগুলো বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
এদিকে এই সংঘাতের আঁচ লেগেছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন হামলার পর সেদেশের একটি কোম্পানির স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং সেখানেও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত কর্তৃপক্ষ মনে করছে তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ‘সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু’ করে ইরান এবং তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই হামলা চালিয়েছে।
কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যদিও জ্বালানি ট্যাংকে বড় ধরনের আগুন লেগেছে, তবে সৌভাগ্যবশত কোনো যাত্রী বা কর্মী নিহত হননি। তবে এর আগের একাধিক হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়া এবং প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ফ্লাইট চলাচলের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত স্থাপনাগুলো বারবার হামলার শিকার হচ্ছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো কুয়েতের প্রধান এই বিমানবন্দরকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করায় আঞ্চলিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কুয়েত সরকার এই উস্কানিমূলক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।























