ঢাকা ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ড যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের কাছে নতুন সংশোধিত প্রস্তাব পাঠালো ইরান গ্রীস — একটি সভ্যতার সূতিকাগার জেল থেকে যেভাবে ‘আলোর পথ’ পেলেন অভিনেতা সিদ্দিক স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল: তারেক রহমান বাংলাদেশে এখনো স্ট্যান্ডার্ড ন্যূনতম মজুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি: রুহুল কবির রিজভী ঝিনাইদহে পুলিশের পোশাক ও ইয়াবাসহ ৫ ভুয়া পুলিশ গ্রেপ্তার উগান্ডায় বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকসহ ২৩১ জন বিদেশি আটক মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অগ্নিকাণ্ড; তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ যুদ্ধবিরতির সুযোগে মাটির নিচ থেকে অস্ত্র ও মিসাইল তুলছে ইরান

উত্তেজনার ইঙ্গিত,ভারতের কাছে ৩ ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • / 81

ছবি সংগৃহীত

 

হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজকে নিরাপত্তা প্যাসেজ দেওয়ার পরিবর্তে ভারতের কাছে ৩ ট্যাঙ্কার জাহাজ অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া এবং স্টেলার রুবি ফেরত চেয়েছে ইরান। এর পাশাপাশি ভারতের কাছে জরুরি ওষুধ এবং জরুরি মেডিকেল সরঞ্জামও চেয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত।

জব্দ ৩ জাহাজের মধ্যে স্টেলার রুবির মালিক ইরান, বাকি দুই জাহাজ আল জাফজিয়া এবং অ্যাসফল্ট স্টার যথাক্রমে মালি এবং নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী। বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় সীমানায় এই তিন ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। বর্তমানে জাহাজগুলো ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ের বন্দরে আছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ প্রত্যাখ্যান, সহায়তাকারীরাও রেহাই পাবে না: ইরান

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন জানিয়েছে, গতকাল নয়াদিল্লিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। সেই বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতীয় কর্মকর্তাদের কাছে ওই জাহাজ ৩টি ফেরত চান ইরানের রাষ্ট্রদূত। এর পাশাপাশি ইরানের জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ এবং মেডিকেল সামগ্রী পাঠানোর অনুরোধও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লির ইরানি দূতাবাস এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু এই তিন দপ্তরের কোনো মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাননি।

প্রসঙ্গত, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।

গত ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে ইরান। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজে হামলাও চালানো হয়েছে। ১৫ দিন ধরে হরমুজ প্রণালি চলাচলের সময় ইরানি হামলার শিকার হয়েছে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাংকার জাহাজ।

তবে এ পর্যন্ত হরমুজে কোনো ভারতীয় ট্যাংকার জাহাজে হামলা হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন— হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কোনো ভারতীয় জাহাজে যেন হামলা না করা হয়।

কী কারণে ভারতকে এই ‘ছাড়’ দিলো ইরান— তা জানতে গত রোববার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। জয়শঙ্কর বলেছেন, এখানে ‘লুকোছাপা’-র কোনো ব্যাপার নেই, এবং এটি ঘটেছে ইরানের সঙ্গে ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই।

এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ভারতের চারটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার জাহাজকে নিরাপদ প্যাসেজ দিয়েছে ইরান।

সূত্র : রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

উত্তেজনার ইঙ্গিত,ভারতের কাছে ৩ ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

আপডেট সময় ০২:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

 

হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজকে নিরাপত্তা প্যাসেজ দেওয়ার পরিবর্তে ভারতের কাছে ৩ ট্যাঙ্কার জাহাজ অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া এবং স্টেলার রুবি ফেরত চেয়েছে ইরান। এর পাশাপাশি ভারতের কাছে জরুরি ওষুধ এবং জরুরি মেডিকেল সরঞ্জামও চেয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত।

জব্দ ৩ জাহাজের মধ্যে স্টেলার রুবির মালিক ইরান, বাকি দুই জাহাজ আল জাফজিয়া এবং অ্যাসফল্ট স্টার যথাক্রমে মালি এবং নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী। বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় সীমানায় এই তিন ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। বর্তমানে জাহাজগুলো ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ের বন্দরে আছে।

আরও পড়ুন  উপকূলে আঘাত এলে পারস্য উপসাগর ‘অচল’ করতে পারে ইরান

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন জানিয়েছে, গতকাল নয়াদিল্লিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। সেই বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতীয় কর্মকর্তাদের কাছে ওই জাহাজ ৩টি ফেরত চান ইরানের রাষ্ট্রদূত। এর পাশাপাশি ইরানের জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ এবং মেডিকেল সামগ্রী পাঠানোর অনুরোধও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লির ইরানি দূতাবাস এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু এই তিন দপ্তরের কোনো মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাননি।

প্রসঙ্গত, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।

গত ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে ইরান। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজে হামলাও চালানো হয়েছে। ১৫ দিন ধরে হরমুজ প্রণালি চলাচলের সময় ইরানি হামলার শিকার হয়েছে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাংকার জাহাজ।

তবে এ পর্যন্ত হরমুজে কোনো ভারতীয় ট্যাংকার জাহাজে হামলা হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন— হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কোনো ভারতীয় জাহাজে যেন হামলা না করা হয়।

কী কারণে ভারতকে এই ‘ছাড়’ দিলো ইরান— তা জানতে গত রোববার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। জয়শঙ্কর বলেছেন, এখানে ‘লুকোছাপা’-র কোনো ব্যাপার নেই, এবং এটি ঘটেছে ইরানের সঙ্গে ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই।

এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ভারতের চারটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার জাহাজকে নিরাপদ প্যাসেজ দিয়েছে ইরান।

সূত্র : রয়টার্স