ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহে আরও ২ শিশুর মৃত্যু কানাডায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি হিসেবে ডলি বেগমের শপথ ইরান, লেবানন ও ইরাকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো সংযুক্ত আরব আমিরাত লালমনিরহাট সীমান্তে বিষধর সাপ ও কুমির আতঙ্ক, স্থানীয়দের মাঝে ভয় বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন নাকচ; ইরানের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রেরও আপত্তি নেই দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা ৮০ বছর বয়সী নোবেলজয়ী নেত্রীকে নিজ বাসস্থানে স্থানান্তরের ঘোষণা জান্তা সরকারের চুয়াডাঙ্গায় খরগোশ শিকারের অপরাধে চারজনের কারাদণ্ড জ্বালানি সংকট সামাল দিতে অফিস ও মার্কেট বন্ধের নতুন সময় ঘোষণা নিরাপত্তার শঙ্কায় হেলমেট পরে পরীক্ষার হলে জবি শিক্ষার্থীরা

লালমনিরহাট সীমান্তে বিষধর সাপ ও কুমির আতঙ্ক, স্থানীয়দের মাঝে ভয়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / 14

ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিষধর সাপ ও কুমির ছাড়ার পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর লালমনিরহাটের দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা মাঠে কাজ করতে বা নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়েছেন। একই সঙ্গে এই গুজবকে কেন্দ্র করে সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়ার চোরাচালান চক্র সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও লালমনিরহাট সদর—এই পাঁচ উপজেলাজুড়ে ভারতের সঙ্গে প্রায় ২৮১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এই বিস্তীর্ণ এলাকার নদী, বন-জঙ্গল ও আবাদি জমির ওপর স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা অনেকাংশে নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক খবরের পর কালীগঞ্জের চন্দ্রপুর সীমান্তের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ ও মুকুল হোসেন জানান, জঙ্গল বা খাল-নদীতে যেতে স্থানীয়রা ভয় পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা বাংলাদেশকে জানায়নি। তাই এই বিষয়টিকে বিজিবি গুজব হিসেবেই দেখছে। তিনি বলেন, অতীতে সীমান্ত পাহারায় প্রাণী ব্যবহারের নজির থাকলেও বর্তমানে তা অকার্যকর ও অমানবিক।

আরও পড়ুন  লালমনিরহাটে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষ, আহত ৮

তবে তিনি আরও সতর্কতা দিয়ে বলেন, “সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার অনেক চড়া। তাই এই গুজবের সুযোগ নিয়ে চোরাচালান চক্র নতুন করে সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।” সীমান্তে মাদক ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে বলে তিনি জানান।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাস্তবে যদি এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে তা পরিবেশ ও মানবজীবনের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

লালমনিরহাট সীমান্তে বিষধর সাপ ও কুমির আতঙ্ক, স্থানীয়দের মাঝে ভয়

আপডেট সময় ০১:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিষধর সাপ ও কুমির ছাড়ার পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর লালমনিরহাটের দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা মাঠে কাজ করতে বা নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়েছেন। একই সঙ্গে এই গুজবকে কেন্দ্র করে সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়ার চোরাচালান চক্র সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও লালমনিরহাট সদর—এই পাঁচ উপজেলাজুড়ে ভারতের সঙ্গে প্রায় ২৮১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এই বিস্তীর্ণ এলাকার নদী, বন-জঙ্গল ও আবাদি জমির ওপর স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা অনেকাংশে নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক খবরের পর কালীগঞ্জের চন্দ্রপুর সীমান্তের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ ও মুকুল হোসেন জানান, জঙ্গল বা খাল-নদীতে যেতে স্থানীয়রা ভয় পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা বাংলাদেশকে জানায়নি। তাই এই বিষয়টিকে বিজিবি গুজব হিসেবেই দেখছে। তিনি বলেন, অতীতে সীমান্ত পাহারায় প্রাণী ব্যবহারের নজির থাকলেও বর্তমানে তা অকার্যকর ও অমানবিক।

আরও পড়ুন  হাতীবান্ধায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় বিএনপি ও জামায়াত সংঘর্ষ, ১৫ জন আহত

তবে তিনি আরও সতর্কতা দিয়ে বলেন, “সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার অনেক চড়া। তাই এই গুজবের সুযোগ নিয়ে চোরাচালান চক্র নতুন করে সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।” সীমান্তে মাদক ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে বলে তিনি জানান।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাস্তবে যদি এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে তা পরিবেশ ও মানবজীবনের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।