ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে সহিংস দাঙ্গা: বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 1887

ছবি: সংগৃহীত

 

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও দাঙ্গা গতকাল নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, চলমান আন্দোলনের শুরু থেকে গতকালকের সহিংসতা ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী। অর্থাৎ এই পাঁচ দিনের মধ্যে গতকালকে সবচেয়ে বেশি সহিংস রূপ ধারণ করেছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ দাঙ্গা-নিয়ন্ত্রণ পুলিশ প্রত্যাহার করে NOPO নামের বিশেষ অপারেশন বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এই বাহিনী কঠোর দমন-পদ্ধতির জন্য পরিচিত। এই বাহিনীর কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত।

আরও পড়ুন  ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানকে পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

NOPO এর অভিযানের সময় বহু দাঙ্গাকারী গুলিবিদ্ধ ও গ্রেপ্তার হয়েছে। এই নিহতদের একটি বড় অংশ সরকারি ও পুলিশ ভবন থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল বলে জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা কাঠামোর দিক থেকে, ইরানের বিশেষ ইউনিট চারটি ব্যাটালিয়নে বিভক্ত—

১/ ইমাম আলী,
২/ মুসা ইবনে জাফর,
৩/ ইমাম খোমেনি ও
৪/ ইমাম হুসেইন— যাদের মোট সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ সশস্ত্র সদস্য। এর বাইরে রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার সদস্যের দুটি বাহিনী: নিয়মিত দাঙ্গা-নিয়ন্ত্রণ পুলিশ ও বিশেষ অপারেশন ইউনিট NOPO।

আজকের সহিংসতা ‘কোড–২’ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরই NOPO মোতায়েন করা হয়।
যদি এই বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হতো, তাহলে তা ‘কোড–৩’ পর্যায়ে গিয়ে রাস্তায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) নামানোর ঝুঁকি তৈরি করত।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, NOPO বেশিরভাগ দাঙ্গা ও সংঘর্ষ দমন করতে সক্ষম হয়েছে। কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চললেও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ ও আটক হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে ব্যাপক ভুল তথ্য ও অতিরঞ্জিত দাবি ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করছে ইরানের মিডিয়া। তাদের মতে, ইরান এখনই রাষ্ট্রব্যবস্থার (সরকার) পতনের মুখে নয়। কেননা ২০২২ সালের আন্দোলন ছিল এর চেয়ে বড় পরিসরের, আর বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনী তুলনামূলকভাবে বেশ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানে সহিংস দাঙ্গা: বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

আপডেট সময় ১২:৩২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

 

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও দাঙ্গা গতকাল নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, চলমান আন্দোলনের শুরু থেকে গতকালকের সহিংসতা ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী। অর্থাৎ এই পাঁচ দিনের মধ্যে গতকালকে সবচেয়ে বেশি সহিংস রূপ ধারণ করেছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ দাঙ্গা-নিয়ন্ত্রণ পুলিশ প্রত্যাহার করে NOPO নামের বিশেষ অপারেশন বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এই বাহিনী কঠোর দমন-পদ্ধতির জন্য পরিচিত। এই বাহিনীর কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

NOPO এর অভিযানের সময় বহু দাঙ্গাকারী গুলিবিদ্ধ ও গ্রেপ্তার হয়েছে। এই নিহতদের একটি বড় অংশ সরকারি ও পুলিশ ভবন থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল বলে জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা কাঠামোর দিক থেকে, ইরানের বিশেষ ইউনিট চারটি ব্যাটালিয়নে বিভক্ত—

১/ ইমাম আলী,
২/ মুসা ইবনে জাফর,
৩/ ইমাম খোমেনি ও
৪/ ইমাম হুসেইন— যাদের মোট সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ সশস্ত্র সদস্য। এর বাইরে রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার সদস্যের দুটি বাহিনী: নিয়মিত দাঙ্গা-নিয়ন্ত্রণ পুলিশ ও বিশেষ অপারেশন ইউনিট NOPO।

আজকের সহিংসতা ‘কোড–২’ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরই NOPO মোতায়েন করা হয়।
যদি এই বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হতো, তাহলে তা ‘কোড–৩’ পর্যায়ে গিয়ে রাস্তায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) নামানোর ঝুঁকি তৈরি করত।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, NOPO বেশিরভাগ দাঙ্গা ও সংঘর্ষ দমন করতে সক্ষম হয়েছে। কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চললেও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ ও আটক হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে ব্যাপক ভুল তথ্য ও অতিরঞ্জিত দাবি ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করছে ইরানের মিডিয়া। তাদের মতে, ইরান এখনই রাষ্ট্রব্যবস্থার (সরকার) পতনের মুখে নয়। কেননা ২০২২ সালের আন্দোলন ছিল এর চেয়ে বড় পরিসরের, আর বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনী তুলনামূলকভাবে বেশ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।