০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় বক্তব্যরত অবস্থায় জামায়াতের জেলা আমীরের মৃত্যু বাংলাদেশিদের জন্য ভিসায় বন্ড বাধ্যতামূলক করল যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনী নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য, ডগ স্কোয়াড ও ড্রোন নজরদারি ঘুমের ঘোরে কথা বলা; মনের কথা নাকি মস্তিষ্কের বিশেষ আচরণ? খুলনায় আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিপক্ষে মার্কিন জনগণ স্পেনে দুই হাইস্পিড ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ২১ আলিফ হত্যা মামলার শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণসহ ২৩ আসামি আদালতে জনসম্মুখে প্রথমবার বক্তব্য রাখলেন জাইমা রহমান হৃদয় ম্যাজিকে রংপুরের জয়, এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি

ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ৩

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 91

ছবি: সংগৃহীত

 

ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক বিমান হামলায় লেবাননের সিরিয়া সীমান্ত এবং দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) উত্তর-পূর্ব লেবাননের হারমেল জেলার হাউশ আল-সাইয়্যেদ আলি এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালালে ২ জন প্রাণ হারান।

এলাকাটি সিরিয়া সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় একে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাবি করেছে ইসরায়েল। এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল সেলম এলাকায় পরিচালিত অন্য একটি অভিযানে আরও ১ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

[bsa_pro_ad_space id=2]

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবাননের আকাশ ও স্থলপথে ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিশেষ শাখা কুদস ফোর্সের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হুসেইন মাহমুদ মারশাদ আল-জাওহারিকে এই হামলায় হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, আল-জাওহারি লেবানন ও সিরিয়া থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি মাজদাল সেলমের অভিযানে হিজবুল্লাহর একজন সক্রিয় সদস্যকেও তারা হত্যা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষের শান্ত থাকার কথা ছিল, তবে ইসরায়েল বর্তমানে কৌশলগত দোহাই দিয়ে লেবাননের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের সেনা মোতায়েন করে রেখেছে।

এদিকে লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক চাপ ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়াতে দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভেতরে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করার একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইসরায়েল পাল্টা অভিযোগ তুলেছে যে, হিজবুল্লাহ গোপনে পুনরায় ভারী অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনই তাদের সকল অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা জাগিয়ে রাখছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চুক্তির শর্ত ভঙ্গের এই ধারাবাহিকতায় লেবাননের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো সংঘাত নিরসনে কাজ করার কথা বললেও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিবেশে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

[bsa_pro_ad_space id=4]

ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ৩

আপডেট সময় ০৪:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক বিমান হামলায় লেবাননের সিরিয়া সীমান্ত এবং দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) উত্তর-পূর্ব লেবাননের হারমেল জেলার হাউশ আল-সাইয়্যেদ আলি এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালালে ২ জন প্রাণ হারান।

এলাকাটি সিরিয়া সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় একে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাবি করেছে ইসরায়েল। এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল সেলম এলাকায় পরিচালিত অন্য একটি অভিযানে আরও ১ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

[bsa_pro_ad_space id=2]

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবাননের আকাশ ও স্থলপথে ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিশেষ শাখা কুদস ফোর্সের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হুসেইন মাহমুদ মারশাদ আল-জাওহারিকে এই হামলায় হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, আল-জাওহারি লেবানন ও সিরিয়া থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি মাজদাল সেলমের অভিযানে হিজবুল্লাহর একজন সক্রিয় সদস্যকেও তারা হত্যা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষের শান্ত থাকার কথা ছিল, তবে ইসরায়েল বর্তমানে কৌশলগত দোহাই দিয়ে লেবাননের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের সেনা মোতায়েন করে রেখেছে।

এদিকে লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক চাপ ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়াতে দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভেতরে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করার একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইসরায়েল পাল্টা অভিযোগ তুলেছে যে, হিজবুল্লাহ গোপনে পুনরায় ভারী অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনই তাদের সকল অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা জাগিয়ে রাখছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চুক্তির শর্ত ভঙ্গের এই ধারাবাহিকতায় লেবাননের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো সংঘাত নিরসনে কাজ করার কথা বললেও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিবেশে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।