০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
শিরোনাম :
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হচ্ছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচন করবেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম থাই–কাম্বোডিয়া সীমান্তে পুনরায় উত্তেজনা: অস্ত্রবিরতি ভেঙে বিমান হামলা, নিহত ১ সৈন্য ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দল জার্মান সেনাবাহিনী বাড়ছে: ২০৩৫ সালের মধ্যে ২,৬০,০০০ সক্রিয় সদস্যের লক্ষ্য অনুমোদন মধ্যপ্রাচ্যের কঠিনতম পানি প্রকল্প সম্পন্ন করল ইরান ফিনল্যান্ডে ডাটা সেন্টারের নির্গত  তাপে গরম হচ্ছে পুরো শহর চীন কোয়ান্টাম কম্পিউটারে সফলতা পেলে যুক্তরাষ্ট্রকে এক নিমেষে প্রস্তরযুগে পাঠিয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্রের F-35 যুদ্ধবিমান প্রকল্পে ফিরে আসার বিষয়ে আরো একধাপ এগিয়ে গেল তুরস্ক: এমনটাই জানিয়েছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক। ফিফার শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হলেন ট্রাম্প

সুদানের স্বর্ণখনি ধসে ১১ শ্রমিক নিহত, আহত ৭

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
  • / 63

ছবি: সংগৃহীত

 

উত্তর-পূর্ব সুদানের লোহিত সাগর রাজ্যের আতবারা ও হাইয়া শহরের মধ্যবর্তী হাওয়েদের মরুভূমিতে অবস্থিত ‘কির্শ আল-ফিল’ নামের একটি স্বর্ণখনিতে ধসের ঘটনায় অন্তত ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় খনিজ সম্পদ কোম্পানি সুদান মিনারেল রিসোর্সেস কোম্পানি (এসএমআরসি)। খবর আল-জাজিরার।

এসএমআরসি জানিয়েছে, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংস্থাটি আগে থেকেই এই খনিতে কাজ করার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল, কারণ সেখানকার কাজের পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। দুর্ঘটনাস্থলটি বর্তমানে সুদানের সরকারি বাহিনী সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস (এসএএফ)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ সুদানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত। এর মধ্যেই দেশটির সেনা-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, ২০২৪ সালে রেকর্ড ৬৪ টন স্বর্ণ উত্তোলন করেছে তারা, যা দেশের রাজস্বের একটি বড় অংশ যোগ করছে। আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ সুদান স্বর্ণ উৎপাদনের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে, তবে বড় পরিসরে শিল্পায়িত খনি ব্যবস্থার অভাবে এখনও ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের খনির ওপরই বেশি নির্ভর করছে দেশটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তার স্বল্পতা, অনিয়ন্ত্রিত খনন কার্যক্রম এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সুদানে খনি দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ২০২৩ সালেও এক ভয়াবহ খনি ধসের ঘটনায় ১৪ জন শ্রমিক প্রাণ হারান, আর ২০২১ সালে আরও একটি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩৮ জন।

নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা মনে করেন, সঠিক তদারকি এবং খনিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।

সুদান সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারগুলো অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সুদানের স্বর্ণখনি ধসে ১১ শ্রমিক নিহত, আহত ৭

আপডেট সময় ১২:০০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

 

উত্তর-পূর্ব সুদানের লোহিত সাগর রাজ্যের আতবারা ও হাইয়া শহরের মধ্যবর্তী হাওয়েদের মরুভূমিতে অবস্থিত ‘কির্শ আল-ফিল’ নামের একটি স্বর্ণখনিতে ধসের ঘটনায় অন্তত ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় খনিজ সম্পদ কোম্পানি সুদান মিনারেল রিসোর্সেস কোম্পানি (এসএমআরসি)। খবর আল-জাজিরার।

এসএমআরসি জানিয়েছে, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংস্থাটি আগে থেকেই এই খনিতে কাজ করার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল, কারণ সেখানকার কাজের পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। দুর্ঘটনাস্থলটি বর্তমানে সুদানের সরকারি বাহিনী সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস (এসএএফ)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ সুদানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত। এর মধ্যেই দেশটির সেনা-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, ২০২৪ সালে রেকর্ড ৬৪ টন স্বর্ণ উত্তোলন করেছে তারা, যা দেশের রাজস্বের একটি বড় অংশ যোগ করছে। আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ সুদান স্বর্ণ উৎপাদনের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে, তবে বড় পরিসরে শিল্পায়িত খনি ব্যবস্থার অভাবে এখনও ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের খনির ওপরই বেশি নির্ভর করছে দেশটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তার স্বল্পতা, অনিয়ন্ত্রিত খনন কার্যক্রম এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সুদানে খনি দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ২০২৩ সালেও এক ভয়াবহ খনি ধসের ঘটনায় ১৪ জন শ্রমিক প্রাণ হারান, আর ২০২১ সালে আরও একটি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩৮ জন।

নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা মনে করেন, সঠিক তদারকি এবং খনিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।

সুদান সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারগুলো অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।