ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নরসিংদীতে ছুরিকাঘাতে পিতাকে হত্যা, অভিযুক্ত ছেলে পলাতক নিখোঁজের চার দিন পর খালে বৃদ্ধার মরদেহ মাদক মামলার বিচার দ্রুত করতে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন আমাদের বোমায় নারী-শিশু নিহত হচ্ছে, ট্রাম্পের সমালোচনায় মার্কিন কংগ্রেস সদস্য জনস্বার্থের প্রকল্পে নতুন অর্থের উৎস খুঁজছে সরকার: অর্থমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন, রাজপথে হুমকি নয়: রিজভী ‘যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজবে আফ্রিকায় ৮০ জনের বেশি নিহত সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ধর্মঘট প্রত্যাহার ভারতীয়দের, শনিবার থেকে হিলি বন্দরে বাণিজ্য শুরু

দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, চলছে ভোটগ্রহণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
  • / 538

ছবি সংগৃহীত

 

দক্ষিণ কোরিয়ায় অভিশংসনের মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণের পর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন দেশটির নাগরিকরা। সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর পার্লামেন্ট ইউনকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিলে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষাপটে আজ মঙ্গলবার (৩ জুন) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন।

স্থানীয় সময় ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। সারাদেশে স্থাপন করা হয়েছে ১৪,২৯৫টি ভোটকেন্দ্র, যেখানে নাগরিকরা তাদের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৫০ বিলিয়ন SAFE প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে তুরস্ক-দক্ষিণ কোরিয়াকে আমন্ত্রণ জানালো

নির্বাচনপূর্ব জরিপগুলোতে দেখা গেছে, বিরোধীদল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী লি জে মিয়ং জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টির প্রার্থী কিম মুন সু, যিনি অভিশংসিত ইউন সুক ইওলের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।

ছয় মাস আগে ইউন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দিয়ে দেশটিকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ঠেলে দেন। তার এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে দেশটির জাতীয় পার্লামেন্ট অভিশংসনের মাধ্যমে তাকে সরিয়ে দেয়। এরপর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নেতৃত্ব সংকট বিরাজ করছে।

নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ এখন স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র, নীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও দেশব্যাপী কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটারদের উপস্থিতিও লক্ষ্যণীয়ভাবে ভালো, যা দেশটির রাজনৈতিক সচেতনতার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সবমিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার আজকের নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে, যেখানে একটি ব্যর্থ সামরিক পদক্ষেপের পর গণতন্ত্রের বিজয়ের আশায় এগিয়ে চলেছে জনগণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, চলছে ভোটগ্রহণ

আপডেট সময় ০১:১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

 

দক্ষিণ কোরিয়ায় অভিশংসনের মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণের পর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন দেশটির নাগরিকরা। সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর পার্লামেন্ট ইউনকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিলে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষাপটে আজ মঙ্গলবার (৩ জুন) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন।

স্থানীয় সময় ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। সারাদেশে স্থাপন করা হয়েছে ১৪,২৯৫টি ভোটকেন্দ্র, যেখানে নাগরিকরা তাদের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  দক্ষিণ কোরিয়া ঐতিহ্য আধুনিকতা আর ভ্রমণের গল্প

নির্বাচনপূর্ব জরিপগুলোতে দেখা গেছে, বিরোধীদল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী লি জে মিয়ং জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টির প্রার্থী কিম মুন সু, যিনি অভিশংসিত ইউন সুক ইওলের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।

ছয় মাস আগে ইউন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দিয়ে দেশটিকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ঠেলে দেন। তার এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে দেশটির জাতীয় পার্লামেন্ট অভিশংসনের মাধ্যমে তাকে সরিয়ে দেয়। এরপর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নেতৃত্ব সংকট বিরাজ করছে।

নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ এখন স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র, নীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও দেশব্যাপী কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটারদের উপস্থিতিও লক্ষ্যণীয়ভাবে ভালো, যা দেশটির রাজনৈতিক সচেতনতার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সবমিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার আজকের নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে, যেখানে একটি ব্যর্থ সামরিক পদক্ষেপের পর গণতন্ত্রের বিজয়ের আশায় এগিয়ে চলেছে জনগণ।