ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় সোনা খনিতে আটকে পড়া ২৬০ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
  • / 423

ছবি সংগৃহীত

 

দক্ষিণ আফ্রিকার একটি সোনা খনিতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে ২৬০ জন শ্রমিককে। খনির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিবানিয়ে-স্টিলওয়াটার শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার জোহানেসবার্গ শহরের ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ক্লুফ সোনা খনিতে হঠাৎ একটি দুর্ঘটনা ঘটে। খনির ভেতরে শ্রমিকদের ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত উত্তোলনযন্ত্র বা হোইস্ট বিকল হয়ে গেলে শ্রমিকরা খনির নিচে আটকে পড়েন।

আরও পড়ুন  শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

সিবানিয়ে-স্টিলওয়াটার জানায়, প্রথম দফায় রাত ১টা ৩০ মিনিটে ৭৯ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। পরে আরও ছয় ঘণ্টা ধরে বাকিদের ওপরে তোলা হয়। সৌভাগ্যবশত, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “ঘটনার সময় কোনো ধরণের গুরুতর ঝুঁকি ছিল না। উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত খনির বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন শ্রমিকদের উদ্বিগ্ন স্বজনরা।”

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক শ্রমিককে প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যপরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে এবং তাদের পরিবারদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মাইনওয়ার্কার্স (NUM) জানায়, দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে। সংগঠনটি শ্রমিকদের দীর্ঘসময় খনির নিচে আটকে থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, শ্রমিকরা প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে খনির ভেতরে ছিলেন।

তবে সিবানিয়ে-স্টিলওয়াটারের মুখপাত্র হেনরিকা নিনহ্যাম বলেন, “শ্রমিকরা বাস্তবিকভাবে আটকে পড়েননি, বরং নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের খনির সাব-শ্যাফট স্টেশনে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল।”

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় লাখ লাখ মানুষ খনিশিল্পে কর্মরত। দেশটি বিশ্বের শীর্ষ প্লাটিনাম রপ্তানিকারক এবং সোনা, হীরা, কয়লা ও অন্যান্য খনিজ পদার্থের অন্যতম উৎপাদক। যদিও খনিতে দুর্ঘটনার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।

দক্ষিণ আফ্রিকার খনি শিল্প সংগঠন মিনারেলস কাউন্সিল-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৪২ জন খনি শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন, যা গত বছরের ৫৫ জনের তুলনায় কিছুটা কম।

সিবানিয়ে-স্টিলওয়াটারের প্রধান নির্বাহী নিল ফ্রনেম্যান জানিয়েছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা প্রতিরোধমূলক সব ব্যবস্থা নিতে না পারছি, ততক্ষণ খনির কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে না।”

সূত্র: এএফপি

 

নিউজটি শেয়ার করুন

দক্ষিণ আফ্রিকায় সোনা খনিতে আটকে পড়া ২৬০ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার

আপডেট সময় ০৩:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

 

দক্ষিণ আফ্রিকার একটি সোনা খনিতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে ২৬০ জন শ্রমিককে। খনির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিবানিয়ে-স্টিলওয়াটার শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার জোহানেসবার্গ শহরের ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ক্লুফ সোনা খনিতে হঠাৎ একটি দুর্ঘটনা ঘটে। খনির ভেতরে শ্রমিকদের ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত উত্তোলনযন্ত্র বা হোইস্ট বিকল হয়ে গেলে শ্রমিকরা খনির নিচে আটকে পড়েন।

আরও পড়ুন  বান্দরবানে রাতে ইটভাটা থেকে দুই শ্রমিক নিখোঁজ,

সিবানিয়ে-স্টিলওয়াটার জানায়, প্রথম দফায় রাত ১টা ৩০ মিনিটে ৭৯ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। পরে আরও ছয় ঘণ্টা ধরে বাকিদের ওপরে তোলা হয়। সৌভাগ্যবশত, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “ঘটনার সময় কোনো ধরণের গুরুতর ঝুঁকি ছিল না। উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত খনির বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন শ্রমিকদের উদ্বিগ্ন স্বজনরা।”

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক শ্রমিককে প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যপরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে এবং তাদের পরিবারদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মাইনওয়ার্কার্স (NUM) জানায়, দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে। সংগঠনটি শ্রমিকদের দীর্ঘসময় খনির নিচে আটকে থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, শ্রমিকরা প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে খনির ভেতরে ছিলেন।

তবে সিবানিয়ে-স্টিলওয়াটারের মুখপাত্র হেনরিকা নিনহ্যাম বলেন, “শ্রমিকরা বাস্তবিকভাবে আটকে পড়েননি, বরং নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের খনির সাব-শ্যাফট স্টেশনে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল।”

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় লাখ লাখ মানুষ খনিশিল্পে কর্মরত। দেশটি বিশ্বের শীর্ষ প্লাটিনাম রপ্তানিকারক এবং সোনা, হীরা, কয়লা ও অন্যান্য খনিজ পদার্থের অন্যতম উৎপাদক। যদিও খনিতে দুর্ঘটনার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।

দক্ষিণ আফ্রিকার খনি শিল্প সংগঠন মিনারেলস কাউন্সিল-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৪২ জন খনি শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন, যা গত বছরের ৫৫ জনের তুলনায় কিছুটা কম।

সিবানিয়ে-স্টিলওয়াটারের প্রধান নির্বাহী নিল ফ্রনেম্যান জানিয়েছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা প্রতিরোধমূলক সব ব্যবস্থা নিতে না পারছি, ততক্ষণ খনির কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে না।”

সূত্র: এএফপি