চুক্তি নিয়ে ইরানের বক্তব্য নাকচ ট্রাম্পের
- আপডেট সময় ১০:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 28
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে দেশটির দেওয়া বক্তব্য নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা না হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ চলছে বলে জানা গেছে।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে কাতারের প্রতিনিধিরা ভূমিকা পালন করছেন। ইরানও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এর মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান ট্রাম্প। এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে পরবর্তী সময়ে অন্য বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। অবরোধ বহাল রেখে তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে চায় ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাড়ছে বলেও দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের ধারণা, অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরানের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামতে পারে। এর ফলে দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। যুদ্ধের শুরুতেও তিনি এমন সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। এরই মধ্যে যুদ্ধ অষ্টম মাসে প্রবেশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্পের হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক অবরোধ অব্যাহত রাখা, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া এবং কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো রয়েছে। আগামী ৩৫ দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় এসব সিদ্ধান্ত নির্বাচনের পর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুযায়ী, ইরানের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা যাচ্ছে না। দেশটি সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ ওয়াশিংটনের। তবে সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্রে কোন পক্ষ আগে কী পদক্ষেপ নেবে এবং কখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া এক প্রস্তাবে সাত দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেছিল ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াসহ অন্যান্য পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের শর্ত স্পষ্ট। এসব শর্ত মেনে নেওয়ার ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলে কূটনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।























