ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পৃথক কূটনৈতিক আলোচনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 20

ছবি সংগৃহীত

 

সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে আবারও কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী বৈঠকে ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এ প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে পাকিস্তানের দৌড়ঝাঁপ, ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে চাঞ্চল্য

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। সাত মাসের এই সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

এর আগে এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দফায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে দুই দফার চুক্তিই বেশিদিন কার্যকর থাকেনি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরানের শর্তের জবাব এখনো দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।

আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই সমঝোতা ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে ইরান সে অনুযায়ী প্রস্তাব দিয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইরান ও লেবাননে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ, জব্দ করা ইরানি সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। পাশাপাশি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়েও আলোচনায় বসতে রাজি তেহরান।

শনিবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।

তবে রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকেরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনায় বসতে পারেন বলে তিনি আশা করছেন।

এদিকে, রোববার আরাঘচি জানান, ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানকে কিছু জানাননি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চায় না ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি ইরানের দেওয়া শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। তার মতে, চলমান অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার একমাত্র উপায় হলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো।

সূত্র: রয়টার্স

 

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পৃথক কূটনৈতিক আলোচনা

আপডেট সময় ১০:১৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে আবারও কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী বৈঠকে ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এ প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান।

আরও পড়ুন  ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। সাত মাসের এই সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

এর আগে এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দফায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে দুই দফার চুক্তিই বেশিদিন কার্যকর থাকেনি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরানের শর্তের জবাব এখনো দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।

আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই সমঝোতা ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে ইরান সে অনুযায়ী প্রস্তাব দিয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইরান ও লেবাননে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ, জব্দ করা ইরানি সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। পাশাপাশি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়েও আলোচনায় বসতে রাজি তেহরান।

শনিবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।

তবে রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকেরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনায় বসতে পারেন বলে তিনি আশা করছেন।

এদিকে, রোববার আরাঘচি জানান, ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানকে কিছু জানাননি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চায় না ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি ইরানের দেওয়া শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। তার মতে, চলমান অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার একমাত্র উপায় হলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো।

সূত্র: রয়টার্স