ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এক দিনে নিহত আরও ৫৬ জন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
  • / 558

ছবি সংগৃহীত

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা আরও তীব্র হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলায় অন্তত ৫৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশই উত্তর জাবালিয়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী একযোগে বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালায়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয় জাবালিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, যেখানে নারী ও শিশুসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ হতাহত হন।

আরও পড়ুন  গা/জা/য় ইসরায়েলের বর্বর হামলায় নিহত অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি

এদিকে সৌদি আরব সফরে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি গাজায় চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসান চেয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে একেবারেই অনমনীয় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা কোনো চাপেই যুদ্ধ থামাব না।”

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলে প্রাণ হারান আনুমানিক ১ হাজার ১৩৯ জন। সেইসঙ্গে ২০০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ওইদিন থেকেই গাজায় টানা সামরিক অভিযানে নামে ইসরায়েল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫২ হাজার ৯০৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১৯ হাজার ৭২১ জন। তবে গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস বলছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। কারণ, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বহু মানুষকেই মৃত ধরে নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়া গাজায় পরিস্থিতি প্রতিদিনই আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। চিকিৎসাকর্মীরা জানাচ্ছেন, সীমিত সরঞ্জাম, ওষুধের অভাব ও বিদ্যুৎ সংকটে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে হাসপাতালগুলো। আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বান সত্ত্বেও এখনো কার্যকর কোনো যুদ্ধবিরতি হয়নি।

গাজায় ইসরায়েলি হামলার ধারা অব্যাহত থাকায় মানবিক সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশায় বিশ্ববাসী যখন চেয়ে রয়েছে, তখনই নতুন করে রক্তাক্ত হচ্ছে গাজা উপত্যকা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এক দিনে নিহত আরও ৫৬ জন

আপডেট সময় ০২:২১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা আরও তীব্র হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলায় অন্তত ৫৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশই উত্তর জাবালিয়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী একযোগে বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালায়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয় জাবালিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, যেখানে নারী ও শিশুসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ হতাহত হন।

আরও পড়ুন  ইসরায়েল অতিরিক্ত দুটি KC-46 রিফুয়েলিং প্লেন কিনছে

এদিকে সৌদি আরব সফরে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি গাজায় চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসান চেয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে একেবারেই অনমনীয় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা কোনো চাপেই যুদ্ধ থামাব না।”

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলে প্রাণ হারান আনুমানিক ১ হাজার ১৩৯ জন। সেইসঙ্গে ২০০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ওইদিন থেকেই গাজায় টানা সামরিক অভিযানে নামে ইসরায়েল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫২ হাজার ৯০৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১৯ হাজার ৭২১ জন। তবে গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস বলছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। কারণ, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বহু মানুষকেই মৃত ধরে নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়া গাজায় পরিস্থিতি প্রতিদিনই আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। চিকিৎসাকর্মীরা জানাচ্ছেন, সীমিত সরঞ্জাম, ওষুধের অভাব ও বিদ্যুৎ সংকটে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে হাসপাতালগুলো। আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বান সত্ত্বেও এখনো কার্যকর কোনো যুদ্ধবিরতি হয়নি।

গাজায় ইসরায়েলি হামলার ধারা অব্যাহত থাকায় মানবিক সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশায় বিশ্ববাসী যখন চেয়ে রয়েছে, তখনই নতুন করে রক্তাক্ত হচ্ছে গাজা উপত্যকা।