ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব রাশিয়ার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • / 292

ছবি সংগৃহীত

 

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গতকাল রোববার ইসহাক দারের সঙ্গে এই আলোচনায় লাভরভ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক হামলার ফলে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য মস্কো প্রস্তুত রয়েছে। যদি ভারত ও পাকিস্তান উভয় পক্ষ সমাধানে আগ্রহ দেখায়, তাহলে রাশিয়া মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন  বিশ্বকে বিপদমুক্ত করতে রুশ-চীন জোট

এর আগে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও কথা বলেন লাভরভ। সে সময়ও তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিরোধ নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে কাশ্মীরের পেহেলগামে এক বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে।

ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরকে নিজেদের অখণ্ড অংশ বলে দাবি করে আসছে। এই দাবি নিয়ে বহু বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ, সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে। কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সহিংসতা ও বিদ্রোহও এই সমস্যার জটিলতা আরও বাড়িয়েছে।

রাশিয়া ঐতিহাসিকভাবে ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। সোভিয়েত আমল থেকেই মস্কো ও নয়াদিল্লির মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এমন মধ্যস্থতার প্রস্তাব বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই প্রস্তাব শুধু দ্বিপাক্ষিক শান্তিপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় তার ভূরাজনৈতিক প্রভাব আরও দৃঢ় করার কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ভারত ও পাকিস্তান এই প্রস্তাবের প্রতি কী প্রতিক্রিয়া জানায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব রাশিয়ার

আপডেট সময় ০২:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

 

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গতকাল রোববার ইসহাক দারের সঙ্গে এই আলোচনায় লাভরভ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক হামলার ফলে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য মস্কো প্রস্তুত রয়েছে। যদি ভারত ও পাকিস্তান উভয় পক্ষ সমাধানে আগ্রহ দেখায়, তাহলে রাশিয়া মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন  মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের, কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান রাশিয়ার

এর আগে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও কথা বলেন লাভরভ। সে সময়ও তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিরোধ নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে কাশ্মীরের পেহেলগামে এক বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে।

ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরকে নিজেদের অখণ্ড অংশ বলে দাবি করে আসছে। এই দাবি নিয়ে বহু বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ, সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে। কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সহিংসতা ও বিদ্রোহও এই সমস্যার জটিলতা আরও বাড়িয়েছে।

রাশিয়া ঐতিহাসিকভাবে ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। সোভিয়েত আমল থেকেই মস্কো ও নয়াদিল্লির মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এমন মধ্যস্থতার প্রস্তাব বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই প্রস্তাব শুধু দ্বিপাক্ষিক শান্তিপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় তার ভূরাজনৈতিক প্রভাব আরও দৃঢ় করার কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ভারত ও পাকিস্তান এই প্রস্তাবের প্রতি কী প্রতিক্রিয়া জানায়।