ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত বিমানবাহিনী ছেড়ে এবার যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন অভিনন্দন ‘সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব’: কৃষিমন্ত্রী বিপিএল অনিশ্চিত, ক্রিকেটারদের সুখবর বিসিবি বসের দেশে ফিরে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলেন মির্জা আব্বাস সকল ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ আফগানিস্তানে

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব রাশিয়ার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • / 475

ছবি সংগৃহীত

 

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গতকাল রোববার ইসহাক দারের সঙ্গে এই আলোচনায় লাভরভ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক হামলার ফলে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য মস্কো প্রস্তুত রয়েছে। যদি ভারত ও পাকিস্তান উভয় পক্ষ সমাধানে আগ্রহ দেখায়, তাহলে রাশিয়া মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন  ৯৫টি রুশ জাহাজে নিষেধাজ্ঞা সহ তেলে সীমারোপ করলো অস্ট্রেলিয়া

এর আগে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও কথা বলেন লাভরভ। সে সময়ও তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিরোধ নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে কাশ্মীরের পেহেলগামে এক বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে।

ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরকে নিজেদের অখণ্ড অংশ বলে দাবি করে আসছে। এই দাবি নিয়ে বহু বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ, সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে। কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সহিংসতা ও বিদ্রোহও এই সমস্যার জটিলতা আরও বাড়িয়েছে।

রাশিয়া ঐতিহাসিকভাবে ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। সোভিয়েত আমল থেকেই মস্কো ও নয়াদিল্লির মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এমন মধ্যস্থতার প্রস্তাব বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই প্রস্তাব শুধু দ্বিপাক্ষিক শান্তিপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় তার ভূরাজনৈতিক প্রভাব আরও দৃঢ় করার কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ভারত ও পাকিস্তান এই প্রস্তাবের প্রতি কী প্রতিক্রিয়া জানায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব রাশিয়ার

আপডেট সময় ০২:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

 

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গতকাল রোববার ইসহাক দারের সঙ্গে এই আলোচনায় লাভরভ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক হামলার ফলে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য মস্কো প্রস্তুত রয়েছে। যদি ভারত ও পাকিস্তান উভয় পক্ষ সমাধানে আগ্রহ দেখায়, তাহলে রাশিয়া মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন  ফিরছেন কাশ্মীরিরা, যুদ্ধবিরতির পরও শঙ্কায় দিন কাটে

এর আগে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও কথা বলেন লাভরভ। সে সময়ও তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিরোধ নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে কাশ্মীরের পেহেলগামে এক বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে।

ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরকে নিজেদের অখণ্ড অংশ বলে দাবি করে আসছে। এই দাবি নিয়ে বহু বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ, সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে। কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সহিংসতা ও বিদ্রোহও এই সমস্যার জটিলতা আরও বাড়িয়েছে।

রাশিয়া ঐতিহাসিকভাবে ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। সোভিয়েত আমল থেকেই মস্কো ও নয়াদিল্লির মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এমন মধ্যস্থতার প্রস্তাব বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই প্রস্তাব শুধু দ্বিপাক্ষিক শান্তিপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় তার ভূরাজনৈতিক প্রভাব আরও দৃঢ় করার কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ভারত ও পাকিস্তান এই প্রস্তাবের প্রতি কী প্রতিক্রিয়া জানায়।