ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় ৮০ নিহত, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 410

ছবি সংগৃহীত

 

 

ইয়েমেনের রাস ঈসা তেল বন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫০ জন। হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  সৌদি সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পুতিনের সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাৎয়ের ঘোষণা ট্রাম্পের

হুতি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলাসাবাহি জানান, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে রাস ঈসা বন্দরে হঠাৎ করে আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। হামলার সময় বন্দরটিতে কর্মীরা নিয়মিত কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। এই হামলায় নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ শ্রমিক ও ট্রাকচালক বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হুতি গোষ্ঠী যাতে তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আয় করতে না পারে এবং জ্বালানি সংগ্রহে ব্যর্থ হয়, সে লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-আত্তাব জানান, শুধু রাস ঈসা নয়, আরও কয়েকটি স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়। তবুও রাস ঈসায় হামলাটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তিনি বলেন, “প্রথম চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে ঠিক তখন, যখন শ্রমিকরা তেল লোড-আনলোডে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ আঘাতে অনেকে সেখানেই প্রাণ হারান।”

রাস ঈসা তেল বন্দরটি ইয়েমেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর দিয়ে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি এবং ৮০ শতাংশের বেশি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করে থাকে। ফলে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু ছাড়াও দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন হামলা চলতে থাকলে ইয়েমেনের সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

মানবিক সহায়তা নির্ভর একটি দেশের ওপর এমন ঘনঘন সামরিক হামলা বিশ্বশান্তির জন্য অশনিসঙ্কেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় ৮০ নিহত, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

আপডেট সময় ১০:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

 

 

ইয়েমেনের রাস ঈসা তেল বন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫০ জন। হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শক্তি, বৈচিত্র্য আর বিশ্বনেতৃত্বের প্রতীক

হুতি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলাসাবাহি জানান, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে রাস ঈসা বন্দরে হঠাৎ করে আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। হামলার সময় বন্দরটিতে কর্মীরা নিয়মিত কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। এই হামলায় নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ শ্রমিক ও ট্রাকচালক বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হুতি গোষ্ঠী যাতে তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আয় করতে না পারে এবং জ্বালানি সংগ্রহে ব্যর্থ হয়, সে লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-আত্তাব জানান, শুধু রাস ঈসা নয়, আরও কয়েকটি স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়। তবুও রাস ঈসায় হামলাটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তিনি বলেন, “প্রথম চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে ঠিক তখন, যখন শ্রমিকরা তেল লোড-আনলোডে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ আঘাতে অনেকে সেখানেই প্রাণ হারান।”

রাস ঈসা তেল বন্দরটি ইয়েমেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর দিয়ে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি এবং ৮০ শতাংশের বেশি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করে থাকে। ফলে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু ছাড়াও দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন হামলা চলতে থাকলে ইয়েমেনের সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

মানবিক সহায়তা নির্ভর একটি দেশের ওপর এমন ঘনঘন সামরিক হামলা বিশ্বশান্তির জন্য অশনিসঙ্কেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।