ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন, রাজপথে হুমকি নয়: রিজভী ‘যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজবে আফ্রিকায় ৮০ জনের বেশি নিহত সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ধর্মঘট প্রত্যাহার ভারতীয়দের, শনিবার থেকে হিলি বন্দরে বাণিজ্য শুরু জেন-জিদের পর এবার শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ভারতে জেন-আলফার বিক্ষোভ এক্সপ্রেসওয়ে থেকে স্কচটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানক্ষেতে শত বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের প্রতিকৃতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির রেকর্ড স্মৃতি মন্ধানার কিংবদন্তি গাজী মাজহারুলের প্রয়াণ দিবস আজ

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি: শিক্ষা উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
  • / 582

ছবি সংগৃহীত

 

বর্তমানে নানা দাবি-দাওয়ায় দেশে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করলেও, এই সময়টাই এক সম্ভাবনাময় অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার। তাঁর মতে, এক সময় গণতান্ত্রিক পরিবেশ থেকে সরে গিয়ে জাতি প্রজায় পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।

তবে এই পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামকেও অবহেলা করা যাবে না বলে জানান তিনি। সেইসাথে তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি উন্নত ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান আবশ্যক।

আরও পড়ুন  সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল বাস্তবায়নে অগ্রগতি: প্রাথমিক শিক্ষা উপদেষ্টা

মঙ্গলবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন’ বিষয়ে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফপিএবি’র সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মোসয়ূদ মান্নান।

ড. আবরার বলেন, দেশের তরুণরা আমাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাদের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদাকে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোও তরুণদের ভাবনাকে মূল্যায়ন করবে।

সাবেক সরকার শিক্ষাকে দুর্বল করে ফেলেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সেই অবস্থান থেকে বের হয়ে আসার সময় এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষাখাত থেকে লুটপাট করেছে। এমনকি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির মাহাত্ম্য প্রচারে।

স্বাস্থ্য খাতের দুর্বল দিক নিয়েও সরব হন তিনি। বলেন, যেখানে সিজারের গড় হার হওয়া উচিত ১০ শতাংশ, সেখানে তা এখন ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এটি খাতটির উদ্যোক্তাদের অনৈতিকতার ফল। এসব নিয়ন্ত্রণে ডাক্তারদের সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সরকার এসব ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, তাই স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ডাক্তারদের নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ, ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক এবং নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. হালিদা হানুম আক্তার।

উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এফপিএবি বর্তমানে ২৩টি জেলায় কাজ করছে এবং এর সেবা কার্যক্রমে ৫০ লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন, যার ৫৩ শতাংশই যুব জনগোষ্ঠী।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি: শিক্ষা উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৮:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

 

বর্তমানে নানা দাবি-দাওয়ায় দেশে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করলেও, এই সময়টাই এক সম্ভাবনাময় অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার। তাঁর মতে, এক সময় গণতান্ত্রিক পরিবেশ থেকে সরে গিয়ে জাতি প্রজায় পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।

তবে এই পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামকেও অবহেলা করা যাবে না বলে জানান তিনি। সেইসাথে তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি উন্নত ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান আবশ্যক।

আরও পড়ুন  সাত কলেজ নিয়ে নতুন স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন: শিক্ষা উপদেষ্টার ঘোষণা 

মঙ্গলবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন’ বিষয়ে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফপিএবি’র সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মোসয়ূদ মান্নান।

ড. আবরার বলেন, দেশের তরুণরা আমাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাদের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদাকে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোও তরুণদের ভাবনাকে মূল্যায়ন করবে।

সাবেক সরকার শিক্ষাকে দুর্বল করে ফেলেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সেই অবস্থান থেকে বের হয়ে আসার সময় এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষাখাত থেকে লুটপাট করেছে। এমনকি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির মাহাত্ম্য প্রচারে।

স্বাস্থ্য খাতের দুর্বল দিক নিয়েও সরব হন তিনি। বলেন, যেখানে সিজারের গড় হার হওয়া উচিত ১০ শতাংশ, সেখানে তা এখন ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এটি খাতটির উদ্যোক্তাদের অনৈতিকতার ফল। এসব নিয়ন্ত্রণে ডাক্তারদের সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সরকার এসব ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, তাই স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ডাক্তারদের নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ, ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক এবং নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. হালিদা হানুম আক্তার।

উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এফপিএবি বর্তমানে ২৩টি জেলায় কাজ করছে এবং এর সেবা কার্যক্রমে ৫০ লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন, যার ৫৩ শতাংশই যুব জনগোষ্ঠী।