নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে মৌলিক গবেষণার তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০৬:০৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 22
দেশের টেকসই উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিজ্ঞানীদের মৌলিক, উদ্ভাবনী ও মানসম্পন্ন গবেষণায় আরও বেশি আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, গবেষণা শুধু বাজেটনির্ভর হলে চলবে না; খাদ্যের পুষ্টিগুণ, নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা পরিচালনা করতে হবে।
বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার ফলাফলকে পেটেন্টের মাধ্যমে সুরক্ষিত করতে হবে এবং কৃষিকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে উৎপাদনশীল প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষিখাতের উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে।
খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বে খাদ্য উৎপাদনের ঘাটতি নেই, বরং নিরাপদ খাদ্যের সংকট রয়েছে। এ কারণে সরকার নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্য কৃষি ও মৎস্য খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে মাছের খাদ্যের কাঁচামাল নিরাপদভাবে উৎপাদনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে স্বাদুপানির মাছের চাহিদা তুলনামূলকভাবে সীমিত। তাই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপদ উপায়ে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করতে হবে।
মাছ চাষে কৃষিখাতের মতো বিদ্যুতের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, মৎস্যচাষীদের এ দাবি যৌক্তিক। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এর আগে সকালে তিনি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন হ্যাচারি ও গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় সুবর্ণ রুই, মেকং পাঙ্গাশ, মহাশোল, ছোট মহাশোল, স্বাদুপানির মুক্তা, খোকসা, ঢেলা, দেশি সরপুটি, বাইন, ভাগনা, দেশি তিতপুঁটি, ঘাউড়া, মনোসেক্স তেলাপিয়া, গুঁড়া চিংড়ি, গলদা চিংড়ি ও কুচিয়া মাছের হ্যাচারিসহ বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি খাঁচায় শিং, গুলশা, পাবদা ও মাগুর মাছের চাষও পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, ময়মনসিংহ বিভাগের মৎস্য অধিদফতরের পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ড. মো. লতিফুল ইসলাম, পরিচালক (গবেষণা ও পরিকল্পনা) ড. মো. আমিরুল ইসলাম, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

























