মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ আজ
- আপডেট সময় ১২:০৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 110
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর আরোপিত ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন দিবাগত মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রাক্কালে ভোলার উপকূলজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার পর নতুন আশায় জাল, ট্রলার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে গভীর সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাজারো জেলে। তাদের প্রত্যাশা, পর্যাপ্ত মাছ আহরণ করতে পারলে সাম্প্রতিক সময়ের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার গত ১৪ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশের জলসীমায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাত উপজেলায় নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৯৮ জন, দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০ জন, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৫০ জন, লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪ জন, তজুমুদ্দিনে ৪ হাজার ৫০৬ জন, চরফ্যাশনে ১৭ হাজার ৫৬১ জন এবং মনপুরায় ১০ হাজার ১৮৫ জন জেলে রয়েছেন। এছাড়া সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরও প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা জড়িত।
দৌলতখান উপজেলার পাতারখাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মেঘনা তীরবর্তী ঘাটগুলোতে বেড়েছে জেলে, মাঝি ও ট্রলার মালিকদের ব্যস্ততা। কেউ কয়েক দিনের খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় মালামাল ট্রলারে তুলছেন, আবার কেউ নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই সাগরের কাছাকাছি অবস্থান নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। অন্যদিকে অনেক ট্রলারে শেষ মুহূর্তের মেরামত কাজও চলছে। পুরো এলাকায় মাছ ধরার প্রস্তুতি ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
জেলে মিরাজ, রাকিব, হারুন, সাইফুল, লোকমান, ইয়াছিন ও খলিল জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা দীর্ঘদিন কর্মহীন ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহাও উদযাপিত হয়েছে। তাদের দাবি, আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে দিন কাটাতে হয়েছে এবং ঈদের আনন্দও অনেকের ঘরে পৌঁছায়নি।
তারা বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাগরে যাওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রলারে জ্বালানি তেল, খাবার পানি, বরফ ও প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী তোলা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে মাছ নিয়ে তীরে ফিরতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। জেলেদের প্রত্যাশা, বড় আকারের ইলিশসহ পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া গেলে আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। তবে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেলে নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সরকারের দেওয়া সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল বলেও দাবি করেন তারা।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলার প্রায় ৬৩ হাজার ৯০০ জেলেকে ৭৭ কেজি করে সরকারি ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম সফল হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। একই সঙ্গে জেলেরা সাগরে গিয়ে পর্যাপ্ত মাছ আহরণ করতে পারবেন এবং আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।


























