আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো
- আপডেট সময় ০৯:২০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 20
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও কমে ছয় মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান মূল্যপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনের শুরুতে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৬৩ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমে আসে। গত বছরের ২১ নভেম্বরের পর এটিই সর্বনিম্ন মূল্য। একই সময়ে আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারের দাম কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৬ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, সুদের হার কমানোর পরিবর্তে দীর্ঘ সময় অপরিবর্তিত রাখতে পারে।
যদিও অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতির সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের চাহিদা কমিয়ে দেয়। কারণ সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ তখন তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়েছে। এতে ফেডের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা আরও সীমিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে। এই প্রতিবেদন থেকে দেশটির পরবর্তী মুদ্রানীতির বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বর্ণের দামে চাপ তৈরির আরেকটি কারণ হিসেবে সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে দেশটির স্বর্ণ উৎপাদন ২০২৫ সালের ৫৯ দশমিক ৩৩ টন থেকে ২০২৬ সালে প্রায় ৬২ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫৫ দশমিক ৬ ডলারে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২২৫ দশমিক ২৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা মূল্যপতনের কারণে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি।
























